• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন

আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, গুরুতর আহত ১ শিশু

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক বিরোধ ও আর্থিক লেনদেনের জের ধরে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী আরেকটি শিশুসন্তান।

শনিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতে আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামের বড়ুয়াপাড়ায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর মূল অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার আপন ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারের সাথে প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধ ও মানসিক উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরেই শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুজন বড়ুয়ার বসতঘরে আকস্মিক প্রবেশ করে মা, মেয়ে ও এক শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া। সে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর জখম করে।

প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, মাঝরাতে হঠাৎ ঘর থেকে বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দরজার সামনে সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাঁর পাঁচ বছরের ছোট ছেলে পিয়াস বড়ুয়াকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বিছানায় সুজন বড়ুয়ার ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার নিথর ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

উপস্থিত প্রতিবেশীরা দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এনি বড়ুয়াক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। গুরুতর আহত শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সাথে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে কিছু আর্থিক লেনদেন ছিল। সুজন বড়ুয়ার ধারণা, সেই আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা কাগজপত্র চুরির উদ্দেশ্যে তেজপ্রিয় বড়ুয়া মাঝরাতে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে। কিন্তু ঘরে থাকা স্ত্রী-সন্তানেরা বাধা দেওয়ায় বা চিনে ফেলায় তাদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী খুনি হিসেবে প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার নাম স্পষ্ট করে বলে গেছেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের নির্মম হামলায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং আরেকটি ছোট শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পুলিশ পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক প্রধান আসামি তেজপ্রিয় বড়ুয়াসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category