রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চরম আর্থিক লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) বিজ্ঞাপনী ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে বিটিভির মোট আয় যেখানে মাত্র ৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, সেখানে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় চ্যানেলটির খরচের বহর প্রায় ৩০ গুণ বেশি। আজ সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ–৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিটিভির এই বিশাল ব্যবধানের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান তুলে ধরেন।
তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিটিভি করসহ সর্বমোট ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে, যার পরিমাণ ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। বিপরীতে এই ১১ মাসে চ্যানেলটির পরিচালনা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
সংসদে বিগত পাঁচ অর্থবছরের (২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫) একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যানও পেশ করেন তথ্যমন্ত্রী। সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিটিভির এই বিপুল পরিমাণ লোকসান কোনো সাময়িক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে এটি ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ব্যয় ছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয় ২৮৫ কোটি Font ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় কিছুটা কমে ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নামলেও ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকায়। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত এই গণমাধ্যমটি আয় করেছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে তাদের খরচের খাতা ছিল ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকার বিশাল অঙ্কের।
এদিকে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অপর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের গণমাধ্যম খাতের সামগ্রিক একটি সরকারি পরিসংখ্যান সংসদে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৫৯টি টেলিভিশন চ্যানেল, ১ হাজার ৪৩৬টি দৈনিক পত্রিকা এবং ৪৭৪টি অনুমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে।
টেলিভিশন চ্যানেলের বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টিভি চ্যানেলের সংখ্যা চারটি এবং সরকারি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া বেসরকারি চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫টি। এই মোট ৫৯টি চ্যানেলের মধ্যে রাষ্ট্রীয় চারটিসহ বর্তমানে ৩৯টি চ্যানেল নিয়মিত তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পত্রিকা ও অনলাইনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, সারাদেশে বর্তমানে প্রকাশিত ১ হাজার ৪৩৬টি দৈনিক পত্রিকার মধ্যে ঢাকা থেকে ৫৯৩টি এবং দেশের অন্যান্য জেলা বা আঞ্চলিক পর্যায় থেকে ৮৪৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত ৪৭৪টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের মধ্যে মূল ধারার অনলাইন পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ২৮২টি, প্রিন্ট বা দৈনিক পত্রিকার অনলাইন পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ১৩১টি এবং আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ৬১টি পোর্টাল সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।