• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
Headline
ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসকদের রমরমা বাণিজ্য হাজব্যান্ড থিংস! অনাহার ও তোষণনীতি: রাজনৈতিক কাঠামোর কাছেই জিম্মি সাধারণ মানুষ আসন্ন বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের পদধ্বনি: ফোর-এফ সংকটের মুখে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? লোকসানের ফাঁদে আউশ: কেবল প্রণোদনা নয়, কৃষকের লাভ নিশ্চিত করা জরুরি দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কোমর ব্যথা হলে কী করবেন? ১০১ শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রিজন ভ্যান খুলে দেন এসআই প্রদীপ, প্রাইভেট কারে পালান পিচ্চি রাজা শুধু মালদ্বীপ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বঙ্গোপসাগরজুড়ে: নাশিদ সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার যুবক নিহত

আসন্ন বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের পদধ্বনি: ফোর-এফ সংকটের মুখে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

Reporter Name / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের কালো মেঘ নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে সারা বিশ্বের আকাশে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশ্ববাসীকে একটি আসন্ন ও ভয়াবহ খাদ্যসংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর ভাষায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব একটি বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তিনি এই বৈশ্বিক দুর্যোগকে ‘ফোর-এফ’ (4F) সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার অর্থ হলো—খাদ্য (Food), জ্বালানি (Fuel), সার (Fertiliser) এবং অর্থায়ন (Finance)। উন্নত দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং নীতির কারণে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে ভয়াবহ চাপের মুখে পড়ছে, সেটিই তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।

এই ফোর-এফ সংকটের পেছনের কারণগুলো বেশ স্পষ্ট এবং বহুমাত্রিক। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার ফলে গ্লোবাল সাউথের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি সার সরবরাহের বৈশ্বিক চেইনও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, কারণ সারের সবচেয়ে বড় উৎপাদক দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। জ্বালানির বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী এল নিনো বা চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় সাধারণত বিনিয়োগকারীরা দরিদ্র দেশগুলো থেকে তাদের মূলধন সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান, যার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য ও জ্বালানি কেনার মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবও এই আসন্ন সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে যে, এল নিনো ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং উত্তর গোলার্ধে শরৎ ও শীতকালে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ার ৯০ শতাংশেরও বেশি আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সংস্থাটি বলছে যে এল নিনো মানেই নিশ্চিত ধ্বংস নয়, তবে এটি চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেশী দেশ ভারত ইতিমধ্যেই একটি দুর্বল বর্ষা মৌসুম পার করেছে, যেখানে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর তাদের দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস কমিয়ে ৯০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী আরও অন্তত ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার শিকার হতে পারে।

বৈশ্বিক এই সমীকরণে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সার ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, তরলীকৃত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এবং বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। ফলে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সারের উৎপাদন ও সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর সারের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগস্ট মাসে এফএও-এর ফুড প্রাইস ইনডেক্স ১৩৩.৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা মে ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ।

আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বে বর্তমানে শস্যের কোনো ঘাটতি নেই এবং এফএও চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ (২.৯৭৯ বিলিয়ন মেট্রিক টন) শস্য উৎপাদনের আশা করছে। কিন্তু মূল শঙ্কার জায়গাটি হলো আগামী দিনগুলো নিয়ে। সারের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে এর ব্যবহার কমিয়ে দেবেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ফসলের উৎপাদনে। এছাড়া বৃষ্টিপাত কমে গেলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সবচেয়ে বড় শিকার হবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি দামে খাদ্য কেনার সক্ষমতা তাদের নেই।

এশিয়া মহাদেশের জন্য এই সংকট সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের, কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন ও ভোগ করে এই অঞ্চলের মানুষ। আগস্ট মাসে এফএও-এর চালের মূল্যসূচক দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের বাজারের এই অস্থিরতা ২০০৮ সালের ভয়াবহ খাদ্যসংকটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। সেসময় জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কিত ক্রেতাদের কেনাকাটার হিড়িক পড়ে এবং মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে চালের দাম টনপ্রতি ৩০০ ডলার থেকে একলাফে ১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। সেসময় বাংলাদেশও এই সংকটের বাইরে ছিল না, দেশের বাজারে চালের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছিল এবং বিভিন্ন জেলায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল।

বর্তমানে ২০০৮ সালের মতো হুবহু পরিস্থিতি না থাকলেও, সংকটের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অত্যন্ত পরিচিত। জ্বালানির দাম বাড়ছে, কৃষিপণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। ভারত ইতিমধ্যে ২০২৩ সালে অভ্যন্তরীণ বাজার সামাল দিতে চাল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তাই আসন্ন শীতে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে আমদানিকারক দেশগুলোকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। ‘২০২৬ গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের একটি। জাতিসংঘের একটি বিশ্লেষণ বলছে, চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি বা ইমার্জেন্সি স্তরের খাদ্যসংকটে পড়বে। এফএও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও শক্তির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা মানুষের জীবনজীবিকাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বাংলাদেশের কৃষিখাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো সারের আমদানিনির্ভরতা। দেশে ব্যবহৃত সারের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। ইউরিয়া সারের সিংহভাগ আসে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। গ্যাস সংকটের কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া কারখানাগুলো চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে, এমনকি মার্চ মাসে বড় কারখানাগুলো একযোগে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশে ব্যবহৃত সারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই চাল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় এবং আমন ও বোরো মৌসুমেই দেশের মোট চালের ৯০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। আসন্ন শীতকালেই বোরো মৌসুম শুরু হবে, তাই কৃষকের মাঠে নামার আগেই গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশ সার মজুত করা অত্যন্ত জরুরি।

কৃষি উৎপাদনে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আরেকটি ভয়াবহ চাপের সৃষ্টি করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, যা এপ্রিলে ১১৫ টাকা এবং ২১ সেপ্টেম্বর একলাফে ১৩৫ টাকায় উন্নীত হয়। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংঘাতের ঠিক আগের তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) তথ্যমতে, দেশের ১৬ লাখ ৫০ হাজার সেচ পাম্পের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার পাম্পই ডিজেলচালিত। এছাড়া কৃষিপণ্য ও সবজি পরিবহনের ট্রাকগুলোও ডিজেলে চলে। ফলে উৎপাদন ও পরিবহনের এই বাড়তি খরচ সরাসরি কৃষকের কাঁধে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ঘাড়ে এসে পড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত বছরের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ পরিবার তাদের মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক ব্যয় করে শুধু খাবার কেনার পেছনে। খাদ্যের দাম যখন বেড়ে যায়, তখন এই পরিবারগুলো তাদের বিলাসবহুল খরচ নয়, বরং খাদ্যতালিকা থেকে পুষ্টিকর খাবার যেমন—ডিম, দুধ ও ডাল কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশের চালের মজুত একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে যাচ্ছে। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে যে, চলতি বছর দেশে প্রায় ৬ কোটি ১৯ লাখ টন ধান উৎপাদিত হবে, যা গত চার বছরের গড়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। বোরো ধানের ফলনও গত বছরের রেকর্ড ছুঁয়েছে। সরকারি গুদামেও বর্তমানে ১৯ লাখ ২০ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা সরকারের নিজস্ব নিরাপদ সীমার (১৩ লাখ ৫০ হাজার টন) চেয়ে বেশি। সরকার সারের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে এবং আমদানিতে ভ্যাট ও আগাম কর মওকুফ করেছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১.১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে।

সুতরাং, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান সমস্যা চালের তাৎক্ষণিক ঘাটতি নয়। মূল শঙ্কার বিষয় হলো আগামী বছরের দুর্বল বোরো ফলন, খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে খাবার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের তা কেনার সামর্থ্য না থাকা। গুদাম খাদ্যে পরিপূর্ণ থাকলেও মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে তাদের প্লেট শূন্যই থেকে যাবে। এই আসন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারকে এখনই কিছু বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরবরাহ ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশকে আগেভাগেই সার কিনে রাখতে হবে, আমদানির উৎস বহুমুখী করতে হবে এবং সম্ভব হলে জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির মাধ্যমে সার সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের সবচেয়ে উৎপাদনশীল ইউরিয়া কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের জন্য কৃষকদের সুনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক তেলের দাম, শিপিং পরিস্থিতি, গ্যাস সরবরাহ, সারের মজুত এবং খাদ্যের দাম—এসব বিষয় আলাদাভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো সংকট সৃষ্টির আগেই সরকারি কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। শীতকাল জুড়ে খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এর পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।

তবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। এমন এক সংকটাপন্ন সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গত বছরের তুলনায় ভর্তুকি ও প্রণোদনা ৫.৭৮ শতাংশ কমানো হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আগাম ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা অত্যন্ত জরুরি। সমস্যা খুচরা বাজারে দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সমাধানের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে যদি কেবল কূটনীতি হিসেবেও ধরা হয়, তবুও তাঁর সতর্কবার্তার পেছনের রূঢ় বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আবহাওয়ার চরম বৈরী পূর্বাভাস, সারের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির যে পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের জন্য এক অশনিসংকেত। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেই বোরো ধানের আবাদ শুরু হবে, তাই কৃষকের মাঠে নামার আগেই নীতিনির্ধারকদের চূড়ান্ত ও সঠিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করতে হবে। সময়মতো প্রস্তুতি না নিলে এই ‘ফোর-এফ’ সংকট দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিতকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category