যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় হিব্রু সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এই অনড় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
তেহরানের সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকস্মিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইসরায়েল তার নিজস্ব সামরিক লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে:
সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকরণ: তেল আবিব বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য।
ছায়াশক্তি দমন: ইসরায়েল মনে করছে, লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি মূলত ইরানের ছায়াশক্তি হিসেবে কাজ করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানিরা এমন একটি সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে—যাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না করলে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে রকেট হামলা অব্যাহত রাখা যায়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ধরনের কোনো শর্ত বা যোগসূত্র মেনে নিতে একেবারেই নারাজ। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার হুমকির মুখে তারা নিজেদের সামরিক কৌশল বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করবে না।
এর আগে বুধবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে—এমন শঙ্কায় ইসরায়েল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলের শঙ্কা, এখন পিছু হঠলে হিজবুল্লাহ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমেরিকার সম্ভাব্য কূটনৈতিক চাপের মুখেও নেতানিয়াহু সরকার তাদের সামরিক অবস্থানে অনড় থাকার সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে শান্তি আলোচনার গুঞ্জন এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের এই একতরফা সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এটি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।