বাঙালির পাতে ইলিশ ছাড়া যেন উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পায় না। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই সারা বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। বিশেষ করে প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করা নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে তুমুল আলোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হওয়াটা একটি নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু এবারের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং রীতিমতো বিস্ময়কর। নিজস্ব নদ-নদীতে ইলিশের আকাল দেখা দেওয়ায় এখন উল্টো পথ ধরেছে বাণিজ্যের চাকা। পদ্মার রুপালি ইলিশের পরিবর্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বিপুল পরিমাণ গুজরাটি ইলিশ এখন পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয়, আমদানিকৃত এসব ভিনদেশি মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে অত্যন্ত সুকৌশলে দেশি বা পদ্মার ইলিশ বলে চড়া দামে বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের প্রতারিত করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
সাম্প্রতিক আমদানি পরিসংখ্যানে এই উল্টোরথের অত্যন্ত স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। যশোরের মৎস্য বিভাগ এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলমের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে মোট ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ দেশে এনেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই দুই মাসে প্রায় তিন লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি বা ৩৫০ টনেরও বেশি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, আমদানি হওয়া এই বিশাল পরিমাণ মাছের আর্থিক মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত থেকে আরও প্রচুর পরিমাণ ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পাইপলাইনে রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, ভারত থেকে আসা এই ইলিশের প্রায় পুরোটাই সংগৃহীত হয়েছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাট থেকে।
পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ এই আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হয়ে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই রপ্তানি হওয়া মাছের প্রায় শতভাগই এসেছে গুজরাট থেকে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ইলিশের যে আকাশছোঁয়া দাম, তার তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশের ক্রয়মূল্য অনেক কম। মূলত এই বিশাল দামের পার্থক্যের কারণে এবং বিপুল মুনাফার আশায় দেশীয় ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে ইলিশ আমদানিতে প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান যে, মৎস্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি গ্রহণ করেই নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান এই ইলিশ আমদানি করছে। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে এত বড় পরিসরে ভারত থেকে ইলিশ আনার প্রয়োজন পড়ল, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে সুস্পষ্ট ও বিশদ কোনো ব্যাখ্যা নেই।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বুকে একটি গর্বিত ইলিশ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে এলেও বর্তমান পরিস্থিতি এক ভিন্ন বাস্তবতার জানান দিচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক জানিয়েছেন যে, বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এই ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইলিশ মূলত একটি সামুদ্রিক মাছ, যা কেবল প্রজননের উদ্দেশ্যে মিঠা পানির নদীতে প্রবেশ করে। কিন্তু সমুদ্রে অতিরিক্ত মাত্রায় মাছ আহরণের কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব জলসীমায় ইলিশের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দেশে ইলিশ আমদানি আইনত নিষিদ্ধ কোনো বিষয় নয় এবং আগেও সীমিত পরিসরে বাইরের দেশ থেকে ইলিশ এসেছে। তবে এ বছর বাজারে তীব্র সংকট থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের ভিত্তিতে কিছু প্রতিষ্ঠানকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আমদানিকারকদের হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় দেশি ইলিশের সরবরাহ একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই শূন্যস্থান পূরণের জন্যই ব্যবসায়ীরা আমদানির দিকে ঝুঁকছেন। ব্যবসার মূল সূত্রই হলো লাভ; আর আমদানি করে যদি পর্যাপ্ত লাভ না থাকত, তবে কেউই ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আনত না। তিনি আরও জানান যে, গত বছরের জুলাই মাস থেকেই মূলত ভারত থেকে এই ইলিশ আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আনা গুজরাটের এই ইলিশের ক্রয়মূল্য প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ দুই ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৬ টাকার কাছাকাছি পড়ে। এর সঙ্গে শুল্ক, পরিবহন খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করার পরও দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া একই ওজনের দেশি ইলিশের তুলনায় এর দাম অনেক কম পড়ে। ফলে আমদানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে বিপুল পরিমাণ লাভের অর্থ প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশের বাজারে ইলিশের বর্তমান সংকট কতটা তীব্র, তা বাজারদরের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। একইভাবে ৭০০ গ্রামের মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ১,৮০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ২,২০০ থেকে ২,৪০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ছুঁয়েছে প্রায় ২,৮০০ টাকার কাছাকাছি। অথচ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশই আসে এককভাবে ইলিশ থেকে এবং সারা বিশ্বের মোট ইলিশের সবচেয়ে বড় অংশটি বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছর ধরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও মাছের গড় ওজন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তারা গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট ইলিশ উৎপাদন পাঁচ লাখ টনেরও নিচে নেমে যেতে পারে।
দেশের জলসীমায় ইলিশের এই আকালের পেছনে মূলত মানবসৃষ্ট পরিবেশগত কারণগুলোকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান মনে করেন, দেশের নদ-নদীগুলোর লাগামহীন দূষণ, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, কারেন্ট জালের মাধ্যমে অবাধে জাটকা নিধন এবং কৃষিকাজে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। এসব কারণে ইলিশের স্বাভাবিক অভিবাসন পথ বা মাইগ্রেশন রুট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মেধাবী বিজ্ঞানী ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্র বা জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করার পর দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সংরক্ষণে বড় ধরনের অগ্রগতির যে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবের মাটিতে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং উৎপাদন কমার পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে মাত্র ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয় বছর মেয়াদি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই বিশাল বাজেটের প্রকল্পটি আদৌ কতটা কার্যকর হয়েছে বা এর বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের নদীতে যখন ইলিশের হাহাকার, তখন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের উপকূলে ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, এ বছর গুজরাট উপকূলে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় সেখানে মাছের সরবরাহ হু হু করে বেড়েছে এবং দামও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে এসেছে। বাংলাদেশের ভোজনরসিকদের কাছে শুধু ইলিশ মাছেরই নয়, বরং ইলিশের ডিমেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গুজরাটে ধরা পড়া বড় আকারের ইলিশের পেটে প্রচুর ডিম থাকায় বাংলাদেশের বাজারে এই মাছগুলোর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে গুজরাটের ভারুচ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে একেবারে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশ সরবরাহের একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে উঠেছে।
ভারতের ভারুচের স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেতা চিমন ট্যান্ডেল গুজরাটের ইলিশ অর্থনীতির একটি উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তাদের অঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন অত্যন্ত চমৎকার হচ্ছে। ধরা পড়া মাছের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের বাজারে পাঠানো হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ভারুচ থেকে গড়ে তিনটি বড় ট্রাক ইলিশ নিয়ে রওনা হয়। প্রতিটি ট্রাকে অন্তত ২৫০টি বাক্স থাকে এবং প্রতিটি বাক্সে প্রায় ৬০ কেজি করে ইলিশ পরিবহন করা হয়। সেখানকার স্থানীয় মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে জানান যে, বর্তমানে গুজরাটের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমে এই মাছ ধরে ছোট মাপের সাধারণ জেলেরাও অনায়াসে প্রায় পাঁচ লাখ রুপি পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন।
গুজরাটের ইলিশের এই প্রাচুর্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ব্যবসায়ীরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ব্যবসায়ী রথীকান্ত বার জানিয়েছেন যে, অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের বাজারে এসে খুচরা ও পাইকারি পরিমাণে ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের সমুদ্র উপকূল থেকে আসা বড় আকারের ডিমওয়ালা ইলিশ। তবে পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব নদীগুলোতে ইলিশের উৎপাদন নিয়ে সেখানকার সাধারণ জেলেরা বেশ হতাশ। পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার স্থানীয় পর্যায়ে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে নদীর জলদূষণ এবং সমুদ্র ও মোহনায় শিল্পভিত্তিক বড় ট্রলারের মাধ্যমে মাছ ধরাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, নদী ও সমুদ্রের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের সাধারণ ও প্রান্তিক জেলেরা আগের মতো আর নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে, পরিবেশগত বিপর্যয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশ যেখানে নিজস্ব রুপালি সম্পদ হারাতে বসেছে, সেখানে আমদানি করা ভিনদেশি ইলিশেই এখন মিটছে বাঙালির রসনার তৃপ্তি।