• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
উন্নয়নের মরীচিকা ও মেগা প্রকল্পের ফাঁদ: প্রতিশ্রুতির আড়ালে একই খাদের কিনারে অর্থনীতি মোংলা বন্দর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী আমি শোকর করি, কারণ… রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আগুন, ৪০ রোগী আহত পিএইচপির ত্রুটি: ঝুঁকিতে লাখো ওয়েবসাইট, বিশ্বজুড়ে সাইবার সতর্কতা ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন, ঘণ্টায় গতিবেগ ২২৭ কিলোমিটার ৫৯২ কোটি টাকায় দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস’ প্রধানমন্ত্রীর সফরে টোকিওতে থাকবেন না রাষ্ট্রদূত, সমন্বয়ে পররাষ্ট্রসচিব রূপগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩ ৭ দল নিয়ে ‘সমমনা ইসলামী দল’ ঘোষণা, একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার

ঈদের আগেই রামিসা হত্যার চার্জশিট দাখিলের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

Reporter Name / ১২৭ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ডিএনএ (DNA) রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাতে পেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। শনিবার (২৩ মে) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতি ছাড়াও বিচারাঙ্গনের সার্বিক পরিস্থিতি, গুমের শিকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা এবং মামলাজট নিরসনে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

রামিসা হত্যা মামলার অগ্রগতি

আইনমন্ত্রী জানান, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট জমা দিলে আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ত্রুটি থেকে যেতে পারে। এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিতে তিনি বলেন:

  • রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট আসতে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • রিপোর্ট হাতে পেলেই দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • ট্রায়াল বা বিচারকাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ঈদের আগেই শেষ করা হবে এবং ঈদের পর আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু করতে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

নেত্রকোণার মেঘলা ইস্যু ও শিশু ধর্ষণ মামলা

নেত্রকোণার মেঘলার ঘটনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এই ঘটনার বিচারিক সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া, শিশু ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে ‘পেপারবুক’ তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হবে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোকে আইনি সহায়তা

বিগত সরকারের আমলে যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকার এসব ভুক্তভোগী পরিবারকে সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা এবং নিরাপত্তা প্রদান করবে—এটি কাগজে-কলমে আইনে থাকুক বা না থাকুক।

মামলাজট নিরসন ও আইনি সংস্কার

দেশের আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা বিপুল সংখ্যক মামলার চাপ কমাতে আইনমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন:

  • মামলার পরিসংখ্যান: বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা ঝুলে আছে।

  • দ্রুত নিষ্পত্তি: আপসযোগ্য মামলাগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। আগামী ৩ মাসের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ৫০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে।

  • লিগ্যাল এইড: জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত লিগ্যাল এইড বা আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থার সুপারিশক্রমে এটি পরিচালিত হচ্ছে।

  • মাঠপর্যায়ের সুপারিশ: মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংস্কার করা হবে।

বৈষম্যবিরোধী আইন

বিদ্যমান আইনগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যদি দেশের প্রচলিত কোনো আইন নাগরিক বৈষম্য সৃষ্টি করে থাকে, তবে তা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রণয়নের চেয়ে আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category