• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
Headline
চীনের হামলার আশঙ্কায় পেংঘু দ্বীপপুঞ্জ; জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তাইওয়ানের সেনারা উন্নয়ন প্রকল্পের ‘রি-স্কোপিং ও রি-পারপাসিং’: ব্যয় সাশ্রয় নাকি বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা? দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ছন্দপতন: বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য কমেছে ৮.৩২ শতাংশ নতুন টার্মিনাল নির্মাণের তোড়জোড়: এলএনজি আমদানির আর্থিক বোঝা ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বিপন্ন হতে পারে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি: আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাতে কারসাজি পাড়ার নিরাপত্তা মানে নিজের নিরাপত্তা: কিছু পরামর্শ নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালক আরশাদের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টির সুযোগ অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি

উন্নয়ন প্রকল্পের ‘রি-স্কোপিং ও রি-পারপাসিং’: ব্যয় সাশ্রয় নাকি বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা?

Reporter Name / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে চলমান ও নীতিগত অনুমোদনপ্রাপ্ত মোট ৪২২টি উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘রি-পারপাসিং’ (উদ্দেশ্য পুনর্বিন্যাস) ও ‘রি-স্কোপিং’ (কাজের পরিধি পরিবর্তন)-এর মাধ্যমে এসব প্রকল্পের আকার, লক্ষ্য, বাজেট ও বাস্তবায়ন কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল আনা হচ্ছে। ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতা’ভুক্ত (নীতিগত সম্মতিপ্রাপ্ত) অননুমোদিত প্রকল্পও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, মাঝপথে এসে চলমান প্রকল্পের নকশা ও পরিধি পরিবর্তন করতে গেলে ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তবায়নে মারাত্মক দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে গত জুলাই মাসে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর সামঞ্জস্য পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর ৪৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পুনর্গঠনযোগ্য প্রকল্পের তালিকা কমিশনে জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান ১৫৫টি প্রকল্প এবং সবুজ পাতার ২৬৭টি অননুমোদিত প্রকল্প রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ১৪৫টি, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ১৩২টি, কৃষি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১২০টি এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের ২৫টি প্রকল্প পুনর্গঠনের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি ও চূড়ান্ত সুপারিশের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে ‘রি-স্কোপিং ও রি-পারপাসিং সংক্রান্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই ধরনের বা সমজাতীয় প্রকল্পগুলোকে ‘গুচ্ছ পদ্ধতিতে’ একীভূত করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির মতে, যেসব প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে এবং একই জাতীয় নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে সামগ্রিক ব্যয় কমানো ও ভবিষ্যৎ গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতারও উল্লেখ করেন যে, অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিলে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রয়োজন হবে না, যার ফলে সামগ্রিকভাবে অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
তবে পরিকল্পনা কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনাতেই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০টি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করছেন যে, একাধিক প্রকল্প একীভূত করা হলে বরাদ্দের আকার অনেক বড় হয়ে যাবে, যার জন্য নতুন নকশা, বাজেট পুনর্বিন্যাস ও পুনরায় একনেকের অনুমোদন নেওয়ার মতো জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রচুর সময় নষ্ট হবে। এছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতির তারতম্য বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকট তৈরি করতে পারে। যেমন, কোনো একটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ শেষ হয়ে গেলেও সামান্য অগ্রগতি হওয়া অন্য আরেকটি প্রকল্পের দায়িত্ব বা অডিট আপত্তি নিতে প্রকল্প পরিচালকরা অনীহা প্রকাশ করতে পারেন।
অর্থনীতিবিদ ও সাবেক পরিকল্পনা কর্মকর্তারাও এই পদক্ষেপে অর্থের অপচয় ও সময়ক্ষেপণের বড় ঝুঁকি দেখছেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশীদ মনে করেন, চলমান প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন করলে পূর্বে ব্যয় হওয়া অর্থের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে এবং প্রকল্পগুলো আরও ধীরগতির কবলে পড়বে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানও একই ধরনের মত প্রকাশ করে জানান, যেসব প্রকল্প প্রাথমিক পর্যায়ে আছে বা এখনো শুরু হয়নি, সেগুলোর অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা যৌক্তিক হলেও মাঝপথে থাকা প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জরুরি হলেও চলমান প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক আর্থিক মূল্যায়ন ছাড়া নির্বিচারে পুনর্গঠন করলে তা জনগণের অর্থের সাশ্রয় না ঘটিয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category