• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
পাড়ার নিরাপত্তা মানে নিজের নিরাপত্তা: কিছু পরামর্শ নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালক আরশাদের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টির সুযোগ অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতিবাদ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত মক্কা চুক্তি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়, অন্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ : সিইসি

পাড়ার নিরাপত্তা মানে নিজের নিরাপত্তা: কিছু পরামর্শ

বাদল সৈয়দ / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

ক ) বিনিদ্র পাহারাদারদের দল
১৯৯১ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন গুজব ছড়িয়ে পড়ল, বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি হচ্ছে, আমাদের কলোনিতেও হতে পারে। সাথে সাথে কলোনি অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নিলো, কলোনির যুবকেরা রাত জেগে কয়েকদিন পাহারা দেবে।
পাহারাদারদের দলে আমিও ছিলাম। এটি এত কার্যকর ছিল যে, আমাদের বিশাল দলের ভয়ে আমাদের কলোনি তো দূরের কথা, আশেপাশের পাড়া বা অন্যান্য কলোনিতেও কোনো সমস্যা হয়নি।
খ) অতঃপর ইদানীং…
চারিদিকে যে হারে চুরি-ডাকাতি, খুন-রাহাজানি বাড়ছে তাতে আমি খুবই আতঙ্কিত। এগুলো থামানোর ক্ষমতা আমার নেই। তবে আমি কিছু পরামর্শ দিতে পারি, যা হয়তো কাজে লাগবে।
১) মহল্লা কমিটি-
ছোটবেলায় আমাদের কলোনি এবং আশেপাশের পাড়ায় শক্তিশালী কমিটি ছিল। তাঁরা এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম নিতেন। ভলানটিয়ার টিম তৈরি করতেন, যারা সমস্যা হলে মুহূর্তের মধ্যে এগিয়ে আসতেন। এখন মহল্লা কমিটি তেমন অ্যাক্টিভ নেই বলে আমার ধারণা। কিন্তু অনিরাপত্তার এই ভয়ংকর সময়ে পুরানো দিনের মহল্লা কমিটি আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা পাড়ার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবেন। যে পাড়ার মহল্লা কমিটি যত বেশি শক্তিশালী হবে, সেখানে চোর-ডাকাত যাওয়ার সাহস করবে না।
২) অ্যাপার্টমেন্ট কমিটি-
মহল্লার মতো অ্যাপার্টমেন্টও নিরাপত্তা কমিটি করা জরুরি। এরাও ফ্ল্যাবাসীদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেবেন।
৩) হোয়াটস অ্যাপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপ-
প্রতিবেশীদের সাথে মিলে শুধু নিরাপত্তার জন্য একটি আলাদা গ্রুপ করা যেতে পারে। কেউ বিপদে পড়লে এখানে মেসেজ দেবেন, সাথে সাথে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসবেন। ভুলেও এ গ্রুপে নিরাপত্তা ছাড়া আর কোনো বিষয়ে মেসেজ দেওয়া যাবে না। যাতে এ গ্রুপে মেসেজ এলেই সবাই বোঝেন ব্যাপারটা জরুরি। সব ধরনের মেসেজ দিলে অনেককেই তা খুলে পড়বেন না।
৪) ফোন ট্রি-
এটি স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি পুরানো কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি। কেউ কোনো বিপদে পড়লে বা কেউ বিপদে পড়েছেন টের পেলে সাথে সাথে তাঁর পরিচিতজনদের তা ফোন করে জানান। যারা ফোন পান তাঁরা আবার তাঁদের পরিচিতদের ফোন করেন। এভাবে মুহূর্তের মধ্যে পুরো পাড়া জেনে যায়। প্রথম কলটি গাছের ডালপালার মতো বিস্তার করে বলে একে ‘ফোন ট্রি’ বলে।
৫) ভলানটিয়ার নির্বাচন-
কারা বিপদে পড়লে এগিয়ে যাবেন তাঁদের নির্বাচন করে আগেই একটি টিম তৈরি করে রাখা জরুরি। আগে থেকে ভলানটিয়ার ঠিক করা থাকলে তাঁরা সাথে সাথে এগিয়ে যেতে পারবেন। তবে একা, বা অল্প কয়েকজন নয়, বেশ বড় দল একসাথে যেতে হবে।
৬) জরুরি নাম্বারে ফোন ও থানায় যোগাযোগ –
বিপদের খবর পেলে বা পড়লে সাথে সাথে ৯৯৯-এর মতো জরুরি নাম্বারে ফোন করে সাহায্য চাইতে হবে। যার পক্ষে সম্ভব তিনিই ফোন করবেন। এছাড়া কিছু বাসিন্দাকে আগে থেকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে যে, পাড়ায় কেউ বিপদে পড়লে তাঁরা সাথে সাথে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করবেন।
৭) নিরাপত্তাকর্মী-
পাড়া এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা নিজ বাড়ির জন্য নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা কর্মী রাখতে হবে। একজন/দুজন নয়- প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী রাখতে হবে। যাতে তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
৮ ) সাইরেন ও মাইক-
ব্যাপারটি একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু কাজের। ছোটবেলায় আমাদের পাড়ার মসজিদে একটি সাইরেন ছিল। অবেলায় সেটি বেজে উঠলেই সবাই বুঝতে পারত, কোনো সমস্যা হয়েছে। তখন পাড়ার জোয়ান ছেলেরা দলে দলে বাসা থেকে বের হয়ে এগিয়ে যেত। একইভাবে মাইকেও এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে বারবার বলতে হবে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।
৯) সাবধানতা-
যারা বিপদে এগিয়ে যাবেন, তাঁদের সাবধান হতে হবে। কারণ দুস্কৃতকারীদের কাছে অস্ত্র থাকতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয়, কিছুটা দূরে থেকে তাদের ঘিরে ফেলে পুলিশ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা। তাছাড়া, কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়- আবার সন্দেহ করে কাউকে মারধর করাও উচিত নয়।
১০) সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলো-
পাড়া বা অ্যাপার্টমেন্টে পর্যাপ্ত আলো ও সিসি ক্যামেরা রাখতে হবে। বেতনভোগী বা স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা সিসি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক (অন্তত রাতে) মনিটর করতে হবে। এটা করা ছাড়া সিসি ক্যামেরার অবস্থা অনেকটাই ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল’- এর মতো। পরে তা দেখে অপরাধী শনাক্ত করার চাইতে তাৎক্ষণিকভাবে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া অনেক উপকারী।
গ) দলছুট হরিণ…
সবচেয়ে নিরাপত্তা হলো, সংঘবদ্ধ থাকা। এমন কি দলবদ্ধ হরিণকে বাঘও আক্রণ করে না। সে বেছে নেয় দলছুট হরিণ। তাই আমরা যত একা হবো, বিপদ তত বাড়বে।
ইতিহাস সাক্ষী- সংঘবদ্ধ মানুষের চাইতে শক্তিশালী আর কিছু নেই।

#আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category