• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন: কী করতে হবে, কী করা যাবে না

Reporter Name / ০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কোমরে স্ট্রেন বা আঘাত যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায়, প্রায় যে কোনো ধরনের কার্যকলাপের সময় ঘটতে পারে। কোনো জিনিস উত্তোলন বা কোমর বাঁকানোর কারণে হঠাৎ ব্যথার সূত্রপাত হয়। আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাংসপেশীতে স্ট্রেনের প্রবণতা বেশি হয়। কারণ, আমাদের পেশীগুলো স্থিতিস্থাপকতা হারায়। আপনি আপনার জুতা বাঁধতে উপুড় হয়েছেন, একটি ক্যাবিনেটে কিছু একটা খুঁজছেন এরপর কোমরের মাঝ থেকে নিচের দিকে হঠাৎ টান এবং ব্যথা। চলুন জেনে নিন কী করবেন আর কী করবেন না। প্রথমে জেনে নেই কী করবেন:  ১. ঠাণ্ডা সেঁক দিন, প্রতিদিন সকাল বিকাল করে ২০ মিনিট ঠাণ্ডা সেঁক দিন। তবে মনে রাখবেন, আপনার ত্বকে সরাসরি বরফ লাগাবেন না। এটি টিস্যু এবং স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে।  ২. আপনি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকুন। এতে আপনার কোমরের আঘাতপ্রাপ্ত মাংসপেশী অনেক আরামবোধ করবে।  ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিইনফ্লামেটোরি ওষুধ সেবন করুন। কিডনির সমস্যা বা পাকস্থলীতে আলসার আছে এমন কারো জন্য এগুলো উপদেশযোগ্য না-ও হতে পারে। আপনার কোন ওষুধগুলো গ্রহণ করা উচিত বা করা উচিত নয় সে সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক একটি ভালো ধারণা নেয়া উচিত।  ৪. সঠিক পোশ্চার মেনে চলুন, একবারে বেড রেস্টে চলে যাবেন না। কিছু কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন।  ৫. আপনার মেরুদণ্ডের জন্য আরামদায়ক অবস্থানে ঘুমান। আপনি যখন শুয়ে থাকবেন তখন আপনার হাঁটুর নিচে বালিশ রাখুন। এটি মাংসপেশী রিলিজ হতে সাহায্য করে।  ৬. তৃতীয় দিনের পরে যদি আপনার ব্যথা অব্যাহত থাকে তবে একটু আর্দ্র তাপ দেয়ার চেষ্টা করুন। এটি স্ট্রিফনেস কমাতে এবং আহত এলাকায় রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। ৭. আপনার কোমর যখন আঘাত থেকে পুনরুদ্ধার করছেন তখন হাইড্রেটেড থাকার জন্য পানি পান করুন। দীর্ঘস্থায়ী ডিহাইড্রেশনআপনার মেরুদণ্ডের পেশীগুলোর শক্তি এবং গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। ৮. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার নিয়মিত কাজকর্মে ফিরে যান। প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের সিডিউল পরিবর্তন করুন। তবে মনে রাখবেন, সক্রিয় থাকা রক্ত প্রবাহকে উদ্দীপিত করবে, নমনীয়তা বাড়াবে এবং খিঁচুনি প্রতিরোধ করবে। বেশিরভাগ মানুষই তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমর ব্যথা অনুভব করেছেন। এটি আসলে বিশ্বব্যাপী ডিসঅ্যাবিলিটি হওয়ার প্রধান কারণ এবং লোকেদের কাজের বাইরে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। কোমর ব্যথা বিভিন্ন আকারে আসতে পারে, একটি নিস্তেজ ব্যথা থেকে শুরু করে কয়েকদিন ধরে তীব্র ব্যথা যা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়। ব্যথার তীব্রতার উপর নির্ভর করে, আপনি বাড়িতে চেষ্টা করতে পারেন এমন অনেক চিকিৎসা রয়েছে। কিন্তু ঘরোয়া প্রতিকার বন্ধ করার এবং একজন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সময় আপনি কীভাবে জানবেন। আমার কাছে এমন অনেক রোগী আসে যারা বলে আমার সাত বছর যাবত সমস্যা বা এর থেকেও অনেক বেশি সময় ধরে ব্যথায় ভুগে কেউ কেউ অনেক চিকিৎসক দেখায় আবার কেউ দেখায় না। আজ আমরা এ বিষয় নিয়ে কথা বলবো। কীভাবে বুঝবেন আপনার এ সমস্যার জন্য কখন একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক দেখাতে হবে। নিচের উল্লেখিত সমস্যার কোনোটি যদি আপনার কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার সময় ঘনিয়ে এসেছে আপনার। ১. এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যথায় ভুগলে: বেশিরভাগ কোমর ব্যথা কয়েকদিন পরে কমে যায়, কিন্তু আপনি যদি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারকে কল করার সময় এসেছে। আপনার ব্যথা একটি বড় সমস্যা হয়ে ওঠার আগে ডাক্তার আপনার ব্যথার কারণ বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবেন। যেমন অনেক স্বাস্থ্য অবস্থার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ এবং সমস্যাগুলো তাড়াতাড়ি সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। ২. ব্যথা শরীরের অন্যান্য অঙ্গে প্রসারিত হলে: আপনি যদি গুরুতর কোমর ব্যথা অনুভব করেন যা অন্যান্য অংশের ব্যথার সঙ্গে মিলিত হয়, যেমন আপনার কোমর ব্যথা পায়ে যায়, তাহলে একজন ডাক্তারের সঙ্গে আপনার দেখা করা উচিত। এটি একটি চিহ্ন হতে পারে যে, আপনার সায়াটিকা রয়েছে না হয় পাইরিফরমিস সিনড্রোম অথবা এসআই জয়েন্ট সমস্যা, এ ধরনের ব্যথা যা সায়াটিক স্নায়ুকে প্রভাবিত করে। যা কোমর থেকে নিতম্বের মধ্য দিয়ে যায়।  অবশ অবশ, ঝিমঝিম করলে।  আঘাতজনিত কারণে ব্যথা হলে।  আপনার ব্যথা নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট অবস্থানে আরো খারাপ হলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category