• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
Headline
টাকা ধার না দেওয়ায় সেই শিশুকে হত্যা স্লিপ ডিভোর্স নওগাঁয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ‘হতে পারে কোয়েল ভুল সিঁড়িতে পা দিয়েছিলেন’: রুদ্রনীল ঘোষ ফ্রিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন আম তাজা রাখার দারুণ কিছু কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই, জানালেন প্রধান বিচারপতি পতাকা বৈঠকেও হয়নি সমাধান, দুই দিন ধরে সীমান্তে শিশুসহ ১২ জনের মানবেতর জীবন সৌদিতে ফেলে আসা লাগেজ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১৫ রাউজানে যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা: কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ ভারতীয় হাইকমিশনারের ‘এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশি মারধর: ২ সদস্য বরখাস্ত, সোর্স গ্রেফতার

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

জাতীয় দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে আটক, মারধর ও শারীরিক হেনস্তার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনার মূল উসকানিদাতা ও পুলিশের কথিত সোর্স সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বড় ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেল রানা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হঠাৎ পুলিশ পরিচয় দিয়ে পথরোধ করা হয়। এ সময় পুলিশের সোর্স সোহেল রানার ইশারায় এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেল তাঁর সাথে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা তোয়াক্কা না করে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্রিকেট অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিএমপি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সিএমপি কমিশনার শওকত আলী আজ সাংবাদিকদের বলেন, “ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের সাথে থাকা সোর্স সোহেল রানাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

সিএমপি কমিশনার আরও জানান, পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে এই ঘটনার সাথে আর যার যার সম্পৃক্ততা বা দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওসি আরিফুর রহমান দাবি করেছেন, এই বিতর্কিত অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম থানা বা তাঁকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পরই তিনি কেবল জানতে পারেন যে ভুক্তভোগী যুবক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

তবে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাঈম সংবাদমাধ্যমকে জানান, থানায় নিয়ে আসার পর ওসি আরিফুর রহমানও তাঁর সাথে অত্যন্ত অমানবিক ও অশোভন আচরণ করেছেন। ওসির কক্ষে নাঈম ঘটনার প্রতিবাদ করতে চাইলে ওসি একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নাঈমকে ‘চোখ নামিয়ে কথা বলার’ নির্দেশ দিয়ে ধমক দেন। একজন ওসির এমন অপেশাদার আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। পুলিশ জানায়, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত কমিটির নজরে রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category