• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
Headline
আমাদের ১০টি কমন স্বভাব টাকা ছাপিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংককে ঋণ দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাবিতে নেকাব পরা শিক্ষার্থীকে অপমান ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত ঘোষণা করল বিজেপি সরকার মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর দীর্ঘ বৈঠক, তারেক রহমানের সফর নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক ১২ ডিসেম্বরের আগেই নবায়ন হবে গঙ্গা চুক্তি: পানিসম্পদমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেবে সরকার: রিজভী ভিসা সহজীকরণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি জোরদারে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাহ্দী আমিনের বৈঠক দুর্নীতি করে শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার: মাহদী আমিন

খাতা মূল্যায়নে চরম খামখেয়ালি: শাস্তির খড়্গ আট হাজার শিক্ষকের ওপর

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

পাবলিক পরীক্ষা দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং তাদের ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণের প্রধান মাপকাঠি। এই পরীক্ষার একটি নম্বরের ওপর নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কিংবা না পাওয়া। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, যাদের হাতে শিক্ষার্থীদের এই ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়, সেই শিক্ষকদের একাংশের চরম অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এবার আর কোনো ছাড় নয়। উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নম্বর প্রদান কিংবা প্রাপ্য নম্বর কমিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা প্রায় আট হাজার শিক্ষক এক নজিরবিহীন শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে গত বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, সেই বিষয়টিকেও এবার সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে এই কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ের নম্বর প্রদানকে অনুচিত বা অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নির্ধারণের জন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তারা একটি সম্পূর্ণ নতুন পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যা খুব শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন নীতিমালায় ওভার মার্কিং বা অতিরিক্ত নম্বর প্রদান এবং আন্ডার মার্কিং বা প্রাপ্য নম্বর কমিয়ে দেওয়ার একটি গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক সীমা কঠোরভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। যে সকল পরীক্ষক মূল্যায়ন শেষে ওই নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নম্বর দেবেন অথবা ইচ্ছেকৃতভাবে নম্বর কমিয়ে দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে এই নীতিমালার আলোকেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে পরীক্ষকরা খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হবেন বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির ধরন ও মাত্রা কেমন হবে, সে বিষয়ে এরই মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান মন্ত্রীর সঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যানদের একটি বিশেষ সাক্ষাতের কথা রয়েছে, যেখানে এই শাস্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সম্মতি পাওয়া মাত্রই এই নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বা খাতা দেখায় অবহেলার জন্য দোষী শিক্ষকদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতেই হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও বিস্তারিতভাবে জানান যে, ওভার নাম্বারিং এবং আন্ডার নাম্বারিংয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে যেসব শিক্ষকের সুস্পষ্ট ত্রুটি বা গাফিলতি রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নীতিমালা কমিটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে ঠিক কত নম্বর এদিক-সেদিক হলে সেটিকে অনুচিত বা অগ্রহণযোগ্য নম্বর হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার একটি বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। এরপর সেই মানদণ্ডের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো শিক্ষকই যাতে এই জবাবদিহির জালের বাইরে থাকতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের এই চরম গাফিলতির প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে মূলত পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের পর। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফলাফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের বা খাতা চ্যালেঞ্জ করার যে সুযোগ দেওয়া হয়, সেখানেই বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে চরম অসংগতি ও ভুলত্রুটি ধরা পড়ে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই গাফিলতির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়। গত ১০ আগস্ট দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। এই মেগা পাবলিক পরীক্ষায় সর্বমোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল, যাদের মধ্যে পাস করেছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। কিন্তু মূল ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী তাদের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে, যা আমাদের প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থার এক বিরাট সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

মূল ফলাফল প্রকাশের পর গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু করে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অত্যন্ত আগ্রহ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সর্বমোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী তাদের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছে। যেহেতু একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারে, তাই সব মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র নতুন করে পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় চলে আসে। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষারই খাতা ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি। এত বিপুলসংখ্যক খাতা চ্যালেঞ্জ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, পরীক্ষকদের প্রথম দফার মূল্যায়নের ওপর শিক্ষার্থীদের এবং তাদের অভিভাবকদের বিন্দুমাত্র আস্থা বা বিশ্বাস ছিল না।

পুনর্নিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল যখন প্রকাশিত হলো, তখন তা দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকেই এক চরম অস্বস্তিকর ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রথম দফার মূল্যায়নে ফেল করানো হয়েছিল এমন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর পাস করে গেছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র পরীক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতার কারণে এই সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি মূল্যবান বছর প্রায় ঝরে যেতে বসেছিল। এখানেই শেষ নয়, নতুন করে জিপিএ ৫ বা সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে ৩ হাজার ৭৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী, যারা প্রথমবার মূল্যায়নে এই সম্মানজনক গ্রেড থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। এছাড়া সব মিলিয়ে গ্রেড বা জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর। আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, সর্বমোট ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রের মূল নম্বরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই বিশাল অসংগতি আমাদের প্রচলিত খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির চরম দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

এই চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডগুলো যখন কেবল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন যশোর শিক্ষা বোর্ড অভিযুক্ত পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। এই শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সাহসী একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যার আওতায় ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক এবং সাধারণ পরীক্ষককে আগামী দুই বছরের জন্য যেকোনো ধরনের পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের গুরুদায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, যেকোনো মূল্যে শিক্ষার্থীদের একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ফলাফল প্রদান করাকে তারা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছেন। খাতা মূল্যায়নের মতো স্পর্শকাতর কাজে গাফিলতি বা ভুল করা কোনো পরীক্ষককে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। খুব শিগগিরই বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই বৈঠকের পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করে তা কার্যকর করা হবে।

যশোর বোর্ডের নিজস্ব সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে পুনর্নিরীক্ষণের পর মোট ২ হাজার ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, মূল ফলাফলে ফেল দেখানো হয়েছিল এমন ৩৮০ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর পাস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর এবং নতুন করে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ ৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী। যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সুচারুভাবে এই পরিবর্তিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে সেইসব পরীক্ষককে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করেছে, যাদের খাতা মূল্যায়নে চরম গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণেই এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাদের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

শুধুমাত্র বোর্ডের অভ্যন্তরীণ শাস্তিই নয়, খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের ইচ্ছাকৃত অনিয়ম বা দুর্নীতি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি যুগান্তকারী সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এই নতুন ও আধুনিক আইনে পাবলিক পরীক্ষার যেকোনো ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা কিংবা অবৈধভাবে কোনো পরিবর্তন সাধন করাকে ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন ও জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কঠোর আইনে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের যেকোনো অনিয়ম রোধে একটি বড় ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার এই বিশাল ডামাডোলের মধ্যেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ভোকেশনাল পরীক্ষাতেও চরম দায়িত্বহীনতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং নিয়ম ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগে এসএসসি ভোকেশনাল এবং দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার মোট ৩৪টি কেন্দ্রের সচিবকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ প্রদান করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। গত রোববার বোর্ডের পক্ষ থেকে এই শোকজ নোটিশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়, যেখানে অভিযুক্ত কেন্দ্র সচিবদের আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা লিখিতভাবে তাদের এই চরম দায়িত্বহীনতার সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য জবাব প্রদান করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের পুরো শিক্ষা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় যে একটি বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে, তা এসব কঠোর পদক্ষেপ থেকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সমকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category