• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
লবণের রাজত্বে বিপন্ন জীবন: তৃষ্ণার্ত উপকূলে এক কলস পানির যুদ্ধ অলিগলি পেরিয়ে মূল সড়কে রাজত্ব: অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রযানের কবলে বিপন্ন জননিরাপত্তা ও অর্থনীতি পাম্পে হাহাকার, অথচ উপচে পড়ছে ডিপো: দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অকটেন নিচ্ছে না সরকার মাঠে অরক্ষিত কৃষক: বজ্রপাত রোধের কোটি টাকার প্রকল্পগুলো গেল কোথায়? বাবার হাজার কোটি টাকায় মোহ নেই, লন্ডনে সাধারণ চাকরি করেন অক্ষয়-পুত্র প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানালেন অধিনায়ক আফিদা হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু আ. লীগকেও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত: রাশেদ খান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের এমপিদের অঙ্গভঙ্গি: তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জামায়াত আমিরের

‘খারগ দ্বীপ’ দখলের ছক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষিপ্রগতির মার্কিন প্যারাসুট বাহিনী মোতায়েন

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই গোপন ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষিপ্রগতির ইউনিট ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর প্যারাসুট বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

খারগ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপটি মূলত ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র।

  • অর্থনৈতিক চাপ: দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের টার্মিনালগুলোর মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়।

  • নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা: মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপটি কবজা করতে পারলে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে।

মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশল

পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই অভিযানের জন্য প্রায় ৩ হাজার প্যারাসুট সেনার সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’ (আইআরএফ) মোতায়েন করা হচ্ছে।

  • ১৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম: এই বিশেষ বাহিনীর সবচেয়ে বড় সক্ষমতা হলো, নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।

  • নেতৃত্ব ও রণকৌশল: নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই সেনাদলের নেতৃত্বে থাকছেন মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমেয়ার। সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে মার্কিন নৌবাহিনীর মেরিন কোর দ্বীপটির ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারফিল্ড সংস্কার করবে। এরপর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কমান্ডোরা সি-১৩০ কার্গো বিমানে করে সেখানে অবতরণ করবেন। তবে প্রয়োজনে সরাসরি প্যারাসুট জাম্প করে দ্বীপে নামার বিষয়টিও সামরিক পরিকল্পনায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দ্বিমুখী নীতি ও চরম ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি বিস্ময় তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী আচরণ। একদিকে হোয়াইট হাউস থেকে যখন ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনা’র বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই গোপনে এমন বিশাল সামরিক অভিযানের ছক কষা হচ্ছে। খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁরা “বোমার মাধ্যমেই আলোচনা” চালিয়ে যাবেন।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা এই অভিযানের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। খারগ দ্বীপটি ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত। ফলে সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান নিলে তারা খুব সহজেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এই হটকারী পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বনাশা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category