ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই এখন অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সম্প্রতি সিবিএস এবং ইউগভের যৌথভাবে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চরম এক অশনিসংকেত। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন ক্রমেই তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। গত মাসের শেষের দিকের তুলনায় এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের সমর্থন আরও ২ শতাংশ কমে বর্তমানে মাত্র ৩৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিনিদের এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি। মার্চের শেষের দিকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬২ শতাংশ নাগরিক সরাসরি এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। দেশটির সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী দেশটিতে মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ আমেরিকানরা মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের এই আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ মূলত ইরান যুদ্ধেরই সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব। নিজেদের পকেটে টান পড়ায় তারা এখন আর বিদেশের মাটিতে এই ব্যয়বহুল সংঘাত মেনে নিতে চাইছেন না।
যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রয়টার্স ও ইপসোসের চালানো অন্য একটি জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ধসে গিয়ে মাত্র ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতায় বসার পর থেকে এটিই তার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার রেকর্ড। একদিকে যুদ্ধের বিশাল ব্যয় এবং অন্যদিকে দেশের ভেতরের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি—সব মিলিয়ে আমেরিকানদের বদলে যাওয়া এই জনমত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের সুস্পষ্ট আভাস দিচ্ছে।