২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগেই মাঠের লড়াই গড়িয়েছে হোয়াইট হাউস আর তেহরানের রাজনৈতিক যুদ্ধের ময়দানে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অংশগ্রহণকে ‘অশোভনীয়’ বলে মন্তব্য করার পর তার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। এক বিবৃতিতে তারা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানিয়েছে, মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করে আসা ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের নেই।
ইরান ফুটবল দলের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ কোনো একক দেশের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি ফিফার (FIFA) অধীনে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক উৎসব। ইরানের অকুতোভয় ফুটবলাররা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই এই আসরে জায়গা করে নিয়েছেন। বিবৃতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়, যদি কোনো দেশকে বাদ দিতেই হয়, তবে সেই দেশকে দেওয়া উচিত যারা কেবল ‘আয়োজক’ নাম ধারণ করে আছে কিন্তু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখে না।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। আয়োজক দেশ হয়েও ট্রাম্পের এমন বৈরী আচরণের জবাবে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সক্ষমতাকেই বিশ্ববাসীর সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক পাল্টা আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইরান বোঝাতে চাইছে যে যুদ্ধের উন্মাদনায় মত্ত যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ক্রীড়াবিদদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হতে পারে।
এদিকে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে কোনো সদস্য দেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার কোনো স্বাগতিক দেশের নেই। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞার যে নজির রয়েছে, ইরান আগেভাগেই তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিল। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ট্রাম্প ও ইরানের এই বাকযুদ্ধ ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত আসরে পরিণত করতে যাচ্ছে।
