তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে এক জায়গায় হত্যা করে আরেক জায়গায় ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছেলের মরদেহ বুঝে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেউ হুমকি দেয়নি। আত্মহত্যার কোনো প্রশ্নই আসে না।’ এর আগে আজ সকালে উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফ বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই মাঝে মাঝে আশঙ্কার কথা জানাতেন। তবে কী ধরনের আশঙ্কা, তা কখনো পরিবারকে স্পষ্ট করেননি।
এদিকে, বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে, তার নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান তাহসিফ সাউরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে বা মরদেহের কাছে গিয়ে মৃতদেহের বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে।
তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তার দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেট ফোলা ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তার পরনে কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা রঙের ট্রাউজার ছিল।
নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনেও বলা হয়, মৃত ব্যক্তির হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে।
এর আগে, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে।
জানা যায়, ২৮ বছর বয়সী তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তার গ্রামে বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে ভারতে পলায়ন করেন। ওই ঘটনার যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ সাউরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।