• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

দিল্লির কূটনীতিতে নতুন মোড়: বিশেষ বার্তার আবহে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর

Reporter Name / ২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে নতুন গতি দিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিচ্ছেন না—এমন সিদ্ধান্তের পরপরই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ভারত সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ থাকলেও, এবার সেই সফরটি দ্রুত নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর আইনি জটিলতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাতে আটকে না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ইতিবাচক ও ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক প্রস্তাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারতীয় পক্ষ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দুই দেশের বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা ও বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে ভারত। ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সে দেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি। এর ফলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও জোরদার হবে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো একটি জটিল প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থবির করে রাখা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক নয়।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের পক্ষ থেকে সময়সীমা নির্ধারণ করে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি সফরে গেলে তা দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার জন্য সবচেয়ে অনুকূল হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরবর্তী ব্যস্ত সূচির কারণে এই সময়ের মধ্যেই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি সম্পন্ন করার তাগিদ দিচ্ছে সাউথ ব্লক। এরই মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে দিল্লির মনোভাব তুলে ধরেছেন। এসব আলোচনার পর ভারতীয় হাইকমিশনার জরুরি ভিত্তিতে দিল্লি গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন।
আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধেই দুই দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভারত সফর। এই সফরে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দুই প্রতিবেশীর বিদ্যমান টানাপোড়েন কাটিয়ে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের এক নতুন সূচনা করতে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে উভয় দেশের নীতি-নির্ধারকেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category