• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
Headline
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ৩ মাস বিশেষ সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সয়াবিনের বাজারে ফের আগুন: বোতল ও খোলা তেল লিটারে বাড়ল ৪ টাকা প্লাবনের পদধ্বনি: বিপৎসীমা ছাড়াল ৪ নদী, ৫ জেলায় অকাল বন্যার শঙ্কা চেতনা বিক্রির পণ্য নয়: সংসদে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধনের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের ‘জুলাই থেকেই বিনামূল্যে ড্রেস ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা’: শিক্ষামন্ত্রী সংসদের আঙিনায় নারীরা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ৪৯, আটকে আছে একটির ভাগ্য শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস: শিগগিরই ফিরছেন চেনা রাজনৈতিক আঙিনায় খন্দকার মোশাররফের ১০৫ হিসাব অবরুদ্ধ কিউই বধের পুরস্কার: র‍্যাংকিংয়ে টাইগারদের বিশাল উল্লম্ফন প্রার্থনা করি যাতে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ঠিক না হয়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

‘দেশের ভেতরে দেশ’ ভাঙতে জঙ্গল সলিমপুরে ৪ হাজার যৌথ বাহিনীর অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম / ৭৭ Time View
Update : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিনের ‘সন্ত্রাসী অভয়ারণ্য’ গুঁড়িয়ে দিতে আজ সোমবার ভোর থেকে এক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি সাম্প্রতিক সময়ের দেশের সবচেয়ে বড় ও সুপরিকল্পিত সামরিক তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের মূল লক্ষ্য

দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি একটি ‘রাষ্ট্রের ভেতরে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র’ বা ‘নো-গো জোন’ হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড় কাটা, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং প্লট-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট নির্মূল করতেই এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরকে দেশের ভেতরে আরেক দেশ হিসেবে গণ্য করা হতো। আমরা এটি ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর। অভিযান শেষে এখানে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।”

অভিযানে যারা যুক্ত

অভিযানটিকে সফল করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে:

  • জনবল: ৫৫০ সেনাসদস্য, ১,৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র‍্যাব এবং ১২০ বিজিবি সদস্য।

  • প্রযুক্তি: আকাশপথে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি।

  • বিশেষজ্ঞ দল: মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ ‘ডগ স্কোয়াড’।

কেন এই কঠোর অবস্থান?

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হন র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। ওই ঘটনায় তাকে হত্যার পাশাপাশি র‍্যাবের সদস্যদের অপহরণ ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের চূড়ান্ত পরিণতি দেওয়ার পরিকল্পনা করে সরকার।

সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

৩,১০০ একর বিস্তৃত এই পাহাড়ি এলাকায় মূলত দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই সন্ত্রাসীরা তাদের আনুগত্য পরিবর্তন করে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে এবার তাদের পলায়নের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধীই এলাকা ছেড়ে পালাতে না পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category