• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
Headline
‘ভূমি সেবা জনগণের প্রতি করুণা নয়’: হয়রানিমুক্ত আধুনিক ব্যবস্থাপনার কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন রূপরেখা জ্বালানি মজুতে স্বস্তি, ডিসেম্বরেই খুলছে তৃতীয় টার্মিনাল: তথ্যমন্ত্রীর অভয়বাণী জিলহজের পুণ্যময় দিনগুলো: অফুরন্ত রহমত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ ২৬ হাজার কারখানায় এপ্রিলের বেতন বকেয়া: ঈদের আগে উৎকণ্ঠায় শ্রমিকরা পশ্চিমবঙ্গে ইমাম ও পুরোহিতদের সরকারি ভাতা বাতিল নতুন পে স্কেলে কার কত লাভ? একনজরে দেখে নিন গ্রেড ও ভাতার চমক কোরবানির আগে পশ্চিমবঙ্গে গরুর হাটে হাহাকার, বিপাকে হিন্দু খামারিরা মিত্রদের চাপে ইরানে হামলা স্থগিত ট্রাম্পের মার্কিন মুলুকে ‘রক্তস্নানের’ হুঁশিয়ারি কিউবার

নিভৃতে ছড়াচ্ছে এইচআইভি: অবিবাহিত ও সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণের উদ্বেগজনক উল্লম্ফন

Reporter Name / ২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতে নীরবে, নিভৃতে এবং প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে এক নতুন বিপর্যয়ের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। একসময় আমাদের সমাজে একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, প্রাণঘাতী এইচআইভি বা এইডস মূলত বিদেশফেরত প্রবাসী শ্রমিক বা বিবাহিত ব্যক্তিদের মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করছে এবং ছড়াচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান সেই পুরোনো ও গতানুগতিক ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দিয়েছে। দেশে এইচআইভি আক্রান্তের মোট সংখ্যা যেমন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে আক্রান্তদের মধ্যে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার রীতিমতো আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা বলছেন, সামাজিক রক্ষণশীলতা, লোকলজ্জার ভয়, যৌন শিক্ষা নিয়ে রাখঢাক এবং সারা দেশে পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের চরম অভাবের কারণে আক্রান্তদের একটি বিশাল অংশ চিরকালই শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দেশে বিপুল সংখ্যক তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এই ভাইরাসের চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে এক ধরনের গা-ছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে, সমাজের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার যে মাত্রায় বেড়েছে, তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পরিসংখ্যানের দিকে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলে এই ভীতিকর এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল চিত্রটি আরও অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দেশে এইচআইভি শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে সারা দেশে যেখানে নতুন করে ১ হাজার ৪৩৮ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯১ জনে। তবে সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ উদ্বেগের জায়গাটি তৈরি হয়েছে আক্রান্তদের বৈবাহিক অবস্থা বিশ্লেষণে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল, দেশে মোট আক্রান্তদের মধ্যে অবিবাহিত রোগীর হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। অথচ ২০২৫ সালে এসে সেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৪২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশই অবিবাহিত। যদিও সামগ্রিক সংখ্যার বিচারে এখনও বিবাহিত রোগীরাই সামান্য এগিয়ে আছেন (৫২ দশমিক ৪৬ শতাংশ), কিন্তু অবিবাহিতদের আক্রান্ত হওয়ার এই রকেট গতির ঊর্ধ্বমুখিতা সমাজের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও এই হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, বিয়ের আগেই তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে এবং ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পতিত হচ্ছে।

বয়সভিত্তিক সংক্রমণের হার বিশ্লেষণ করলে এই বিপদের গভীরতা আরও ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, নতুন শনাক্ত হওয়া এইডস রোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬১ শতাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, এরা সমাজের সবচেয়ে কর্মক্ষম এবং প্রজননক্ষম জনগোষ্ঠী। এছাড়া ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী উঠতি তরুণদের আক্রান্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়টি হলো, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও এই সংক্রমণের হার ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে এই ভাইরাসের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে মায়ের শরীর থেকে বা অন্য কোনো অনিরাপদ মাধ্যমের শিকার হয়ে এই নিরীহ প্রাণগুলো জন্মের পর থেকেই একটি মারণব্যাধি বহন করে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সংক্রমণের প্রধান কারণ হলো অবাধ যৌনাচার, নিরাপদ যৌন মিলন সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার চূড়ান্ত অভাব।

সমকামী বা এমএসএম (মেন হু হ্যাভ সেক্স উইথ মেন) জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার বৃদ্ধির চিত্রটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। এইডস/এসটিডি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশে পুরুষ সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণের হার ২০১৭ সালে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২০ সালে সেটি লাফিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছায়। আর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই হার জ্যামিতিক হারে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে! এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের (এএইচএফ) কান্ট্রি ডিরেক্টর আকতার জাহান শিল্পীর দেওয়া তথ্যমতে, দেশে মোট আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশই পুরুষ সমকামী এবং ১৪ শতাংশ হলো পুরুষ যৌনকর্মী। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমকামী পুরুষদের মধ্যে কনডম ছাড়া যৌন মিলনের প্রবণতা অনেক বেশি। পাশাপাশি, বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল সমাজে সমকামিতা আইনি ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায়, এই গোষ্ঠীর মানুষেরা চরম গোপনীয়তার মধ্যে তাদের জীবনযাপন করেন। ফলে তারা এইচআইভি সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণার বাইরে থেকে যান এবং লক্ষণ দেখা দিলেও সামাজিক লাঞ্ছনার ভয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে বা পরীক্ষা করাতে অনীহা প্রকাশ করেন। এই গোপনীয়তাই তাদের মধ্যে ভাইরাসের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে।

সমকামী এবং অবিবাহিত তরুণদের বাইরেও সমাজে আরও বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি নীরবে ছড়াচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, মোট আক্রান্তদের মধ্যে প্রবাসীদের হার ১২ শতাংশ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর হার ১১ শতাংশ এবং শিরায় মাদকগ্রহণকারীদের হার ৬ শতাংশ। নারী যৌনকর্মী ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হার ১ শতাংশ করে হলেও, সমাজের অন্যান্য সাধারণ মানুষের আক্রান্তের হার ২২ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা অনেক সময় প্রবাসজীবনের নিঃসঙ্গতা থেকে অনিরাপদ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তাদের অনেকেই নিজেদের অজান্তে স্ত্রীদের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে লাখ লাখ মানুষের গাদাগাদি করে বসবাস এবং মিয়ানমার থেকে আসা এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যার প্রতিবেশী দেশগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণের হার অনেক বেশি। ফলে সীমান্ত পথে অবৈধ যাতায়াত এবং মাদক চোরাচালানের কারণে এইচআইভি ছড়ানোর ঝুঁকি আমাদের দেশে বহুগুণ বেড়ে গেছে।

রোগ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চরম দৈন্যদশা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলছে। দেশে প্রথম এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে এবং প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২০০০ সালে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুমিত এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৪৮০ জন। কিন্তু এর মধ্যে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে মাত্র ১৪ হাজার ৩১৩ জনকে। এর অর্থ হলো, দেশের আনাচে-কানাচে এখনও তিন হাজারেরও বেশি মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যারা জানেনই না যে তারা এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি বহন করছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং হতাশাজনক তথ্য হলো, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪১টি জেলায় এখনও এইচআইভি পরীক্ষার কোনো সুযোগ বা ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি। এর ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অসংখ্য মানুষ রোগ শনাক্তের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। সামান্য পরীক্ষার জন্য তাদের দূর-দূরান্তের বড় শহরগুলোতে পাড়ি দিতে হয়, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।

শুধু জেলা পর্যায়েই নয়, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতেও বিদেশফেরত যাত্রীদের এইচআইভি পরীক্ষার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বা নজরদারি নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিদেশ থেকে আসছেন, যাদের অনেকেই উচ্চ সংক্রমিত দেশগুলো থেকে ফিরছেন। এই বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ রাশেদ রাব্বি একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিমানবন্দরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা খুব সহজেই সম্ভব। যেসব দেশে এইডসের প্রকোপ বেশি, সেখান থেকে আসা যাত্রীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় শুধু রক্তের নমুনা এবং তাদের সঠিক যোগাযোগের নম্বর দিয়ে যাবেন। এতে খুব বেশি সময়ও লাগবে না। পরবর্তীতে পরীক্ষার ফলাফল তাদের মোবাইলে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কেউ যদি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন, তবে তাকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে এবং তাকে যথাযথ কাউন্সেলিং দিতে হবে, যাতে তার মাধ্যমে পরিবারের অন্য কেউ বা সমাজে এটি সংক্রমিত না হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক রোগী সেই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। দেশে শনাক্ত হওয়া ১৪ হাজার ৩১৩ জন রোগীর মধ্যে মাত্র ৮ হাজার ৫৭৫ জন রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা মোট শনাক্তের মাত্র ৭৪ শতাংশ (আনুমানিক)। বাকিরা সামাজিক লাঞ্ছনা ও একঘরে হওয়ার ভয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন না। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, এইচআইভি নিয়ে মানুষের মনে যে পুরোনো ভীতি বা ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র ধারণা রয়েছে, তা এখন আর সত্য নয়। তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে শনাক্ত হওয়া অনেক রোগী সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আজও সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) এতই উন্নত হয়েছে যে, এটি গ্রহণ করলে এইচআইভিকে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতোই একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ হিসেবে শরীরে আটকে রাখা যায়। এমনকি বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন উন্নত ইনজেকশনও বের হয়েছে, যা বছরে মাত্র একবার নিলেই সারা বছর এই ভাইরাসের প্রভাব থেকে ভালো থাকা সম্ভব।

এইচআইভির এই ভয়াবহ বিস্তার রোধ করতে হলে আমাদের শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং পুরো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। এইচআইভিকে একটি নৈতিক স্খলনজনিত পাপ বা অপরাধ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে, একে অন্যান্য সাধারণ সংক্রামক ব্যাধির মতোই বিবেচনা করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ, দেশের প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন, তরুণ সমাজকে সঠিক প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলোকে টার্গেট করে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করার মাধ্যমেই কেবল এই নীরব মহামারির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব। অন্যথায়, অবিবাহিত তরুণ এবং সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তা অচিরেই আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামোকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দেবে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category