জাতীয় সংসদে আজ এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্য ও শিষ্টাচারের সাক্ষী হলেন উপস্থিত সবাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের এই সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে আকস্মিক আমন্ত্রণ
বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জানাজা শেষে দুই শীর্ষ নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে, প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
২০ মিনিটের বৈঠক ও বিদায়বেলায় সৌজন্য
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, দুই নেতার মধ্যকার এই বৈঠকটি ছিল সংক্ষিপ্ত। তাঁরা প্রায় ২০ মিনিট নিজেদের মধ্যে একান্ত আলাপচারিতা করেন। তবে এই সাক্ষাতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রশংসনীয় দিক ছিল সরকারপ্রধানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তাঁকে শুধু নিজ কার্যালয়েই বিদায় জানাননি, বরং বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দিয়ে আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিকতা ও সৌজন্যবোধ দেখে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবরই সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শন করে থাকেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের স্বাভাবিক সৌজন্যবোধ সাধারণ মানুষেরও নজর কেড়েছে। আজকের এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার একটি চমৎকার উদাহরণ হয়ে থাকবে।