আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরব বিশ্বের ফুটবল উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। ইরাক ও মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল টেক স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ‘জেমিনি’। মঙ্গলবার (১২ মে) এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গুগল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই স্পনসরশিপের মাধ্যমে তারা নিজেদের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরব অঞ্চলের সমৃদ্ধ ক্রীড়া সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরতে চায়। আরব বিশ্বের ফুটবলকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, আকর্ষণীয় এবং উপভোগ্য করে তোলাই এই অংশীদারিত্বের প্রধান লক্ষ্য।
এই চুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এখানে কেবল মাঠের খেলার পারফরম্যান্স নয়, বরং দর্শকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করে দুই দলের সাথে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের অগণিত সমর্থকদের একটি নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরি করা হবে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে গুগল এবং দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন যৌথভাবে তাদের সমর্থকদের জন্য অভিনব কিছু কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ছবি ও গ্রাফিক্স তৈরি: জেমিনির টেক্সট-টু-ইমেজ মডেল ‘ন্যানো বানানা’ ব্যবহার করে সমর্থকরা নিজেদের পছন্দমতো উদযাপনের ছবি, ব্যানার বা দারুণ সব গ্রাফিক্স বানাতে পারবেন।
থিম সং তৈরি: ‘লিরিয়া’ নামের অত্যাধুনিক টেক্সট-টু-মিউজিক মডেল ব্যবহার করে ভক্তরা তাদের প্রিয় দলের জন্য নিজস্ব থিম সং বা গান তৈরি করার সুযোগ পাবেন।
ম্যাচ বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস: ফুটবলের জটিল নিয়মকানুন এআইয়ের সাহায্যে সহজে বোঝা, ম্যাচের ডেটা বিশ্লেষণ করা এবং পরবর্তী ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আগাম ধারণা পাওয়ার সুবিধাও থাকবে।
আরব অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক ক্রীড়া স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলের এই বিশাল ভক্তগোষ্ঠীর কাছে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গুগলসহ অন্যান্য টেক কোম্পানিগুলো এখন বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে মরক্কো অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল। প্রথম কোনো আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকে ওই অঞ্চলে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও সমর্থক গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই এগোচ্ছে গুগল।