জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশের সীমান্ত এলাকার প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের কোনো খাদ্য ও কৃষি নিরাপত্তা নেই। নিজ দেশের ভূমি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কৃষকরা স্বাধীনভাবে ধান উৎপাদন বা চাষাবাদ করতে পারছেন না। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে এনসিপির কৃষি সেল আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার : সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্তে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গতকাল সীমান্তে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে বাধা দেয়। নিজ দেশের ভেতরে চলাচলে এমন বাধা দেওয়াকে তিনি বর্তমান সরকারের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে কৃষকরা নিজেদের জমিতে যেতে পারেন না এবং সেখানে প্রায়ই বড় ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্যের বাংলাদেশে ঢুকে গরু চুরি করতে এসে গ্রামবাসীর ধাওয়া খাওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতের কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক অধিকার হরণ করতে আসে, তবে দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবে এবং এই অঞ্চল থেকে তাদের আধিপত্য নিশ্চিহ্ন করবে।
কৃষিনির্ভর রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি নেতা বলেন, মওলানা ভাসানী কৃষকদের কথা ভেবে তার দলের জন্য একটি মার্কা রেখেছিলেন, যা এখন বেদখল হয়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে ধান মার্কা কৃষকদের রক্ষা করার কথা ছিল, সেই মার্কা আজ বগুড়া ছেড়ে গুলশানে চলে এসেছে। তারা আজ ক্ষমতায় থাকলেও হাওরের বাস্তব ধান আজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাঁর মতে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বদলে বর্তমানে ধানকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীদের তোষণ ও পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
সবশেষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারত সাম্রাজ্যবাদের সামনে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে টিকে থাকা পৃথিবীর অন্যতম এক বিস্ময়। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এ দেশের মানুষ প্রয়োজনে না খেয়ে থাকবে, কিন্তু কারও কাছে মাথা নত করবে না। তিনি সরকারকে দেশের সাধারণ মানুষের এই চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বুঝে রাজনীতি করার এবং কৃষকদের প্রকৃত মুক্তির পথে কাজ করার আহ্বান জানান।