আমার ফুপা শ্বশুর ছিলেন স্কুল শিক্ষক।
আশ্চর্য ব্যাপার হলো, ব্রিটিশ আমলে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি হাই প্রোফাইল ক্যারিয়ার বেছে না নিয়ে নিজ গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতায় ফিরে গিয়েছিলেন!
তাঁর মতো অগাধ জ্ঞানের অধিকারী আমি খুব কম দেখেছি। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন খুব পরহেজগার।
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তাঁর একটি অদ্ভুত শখ ছিল। তা হলো, তিনি স্যুট পরতে খুব পছন্দ করতেন। স্যুট ছাড়া অন্য পোশাক পরতেন না বললেই চলে। হোক তা গরম কিংবা শীত।
পরবর্তীতে তাঁর ছেলেরা ব্যবসায় খুব সফল হন। তাঁরা ফুপার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে স্যুট নিয়ে আসতেন।
ফুপা প্রতি ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করতেন। মজার ব্যাপার হলো, সেখানেও তিনি স্যুট পরে যেতেন!
তাঁর স্যুট পরে মসজিদে যাওয়া নিয়ে কেউ কেউ আড়ালে হাসি-হাসি-ঠাট্টা করতেন।
ব্যাপারটা কিছুটা বিব্রতকর হয়ে ওঠায় একদিন তাঁর বড় ছেলে বললেন, ‘আব্বা, আপনি স্যুট পরে মসজিদে না গেলে হয় না?’
ফুপা পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তাতে সমস্যা কী?’
তাঁর ছেলে আমতা আমতা করতে লাগলেন। তখন ফুপা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি যখন তোমার গার্মেন্টসের বায়ারদের সাথে দেখা করতে যাও, তখন সেরা পোশাক পরে যাও না?’
‘জি, যাই।’
‘কেন সেরা পোশাক পরে যাও?’
‘তাঁদের ইমপ্রেস করতে।’ ছেলে উত্তর দিলেন।
ফুপা বললেন, ‘তুমি যদি বায়ারকে ইমপ্রেস করতে সেরা পোশাক পরে যেতে পারো, আমি আমার আল্লাহকে ইমপ্রেস করতে সেরা পোশাক পরে মসজিদে যাব না?’
#আসুন মায়া ছড়াই