• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
Headline
সরকার প্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের অবৈধ অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশ-ইইউ একসঙ্গে কাজ করবে দেশের কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু ৫ ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন, ২১ জানুয়ারি শুরু বিএনপির নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী আচরণ না করার আহ্বান রিজভীর সারা দেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা কমফোর্ট জোন: কারার ঐ লৌহকপাট… গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বন্যার দোহাইয়ে কৃত্রিম সংকট: হু-হু করে বাড়ছে বাজার দর

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও সাময়িক জলাবদ্ধতাকে ঢাল বানিয়ে ফের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে তাণ্ডব চালাচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু ও অদৃশ্য সিন্ডিকেট। সরজমিনে সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো বড় ধরণের ঘাটতি না থাকলেও এবং বন্যাকবলিত নয় এমন অঞ্চলের কৃষিপণ্য নিয়মিত রাজধানীতে আসলেও কেবল অজুহাত দাঁড় করিয়ে হু-হু করে বাড়ানো হচ্ছে কাঁচাবাজারের দর। বিগত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, ডিম এবং সাধারণ শাকসবজির দাম আকাশচুম্বী হয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কৃত্রিম এই বাজার অস্থিতিশীলতার সুযোগে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পেছনে বাজার অসাধুচক্রের পরিকল্পনা রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ ভোক্তা ও বাজার বিশ্লেষকরা।

রাজধানীর প্রধান প্রধান খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চারদিন আগের তিনশ টাকার কাঁচামরিচ শুক্রবার সর্বোচ্চ চারশ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা মাত্র কয়েক সপ্তাহ পূর্বেও ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। দেশের সাধারণ মানুষের রান্নার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ পেঁয়াজের বাজারও এখন বেশ অস্থির। ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে ধাপে ধাপে বেড়ে সত্তর টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে ডিমের ডজন একশ ত্রিশ টাকা থেকে লাফিয়ে দেড়শ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু ডিম বা পেঁয়াজই নয়, বেগুন, করলা, চিচিঙা এবং বরবটিসহ দৈনন্দিন প্রায় সবজির দর কেজিতে একশ টাকার বেশি বা কাছাকাছি পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর উপাদান ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির পাশাপাশি রুই, পাবদা, পাঙাশ এবং ইলিশের বাজারেও কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

একদিকে কাঁচাবাজার ও মাছ-মাংসের অনিয়ন্ত্রিত দরবৃদ্ধি, অন্যদিকে আবার ভোজ্যতেলের দাম নতুন করে বাড়াতে সরকারের ওপর জোর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে ভোজ্যতেল শোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম আরও দশ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি প্রেরণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির দোহাই দেওয়া হলেও সাধারণ ভোক্তাদের অভিমত, সামান্য বিরতি দিয়ে বারবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর মনোভাব সাধারণ মানুষকে চরম আর্থিক ভোগান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর মতে, বৃষ্টির মৌসুমে পণ্যের সরবরাহে সামান্য প্রভাব পড়া স্বাভাবিক হলেও যেভাবে অযৌক্তিকভাবে প্রতিটি পণ্যের দাম দ্বিগুণ বা তিনগুণ করা হচ্ছে তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। বাজার মনিটরিং ও তদারকি সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই অসাধুচক্র এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদিও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তাদের তদারকি টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা না গড়ে তুললে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান চরম ঝুঁকিতে পড়বে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category