পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে তাজা ফলের গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হলেও বাংলাদেশে এটি ক্রমশ একটি চরম বিলাসী পণ্যে পরিণত হচ্ছে। মূলত মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া অস্বাভাবিক শুল্ককাঠামোর কারণে দেশের বাজারে আপেল, মাল্টা, কমলা বা আঙুরের মতো ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমদানি পর্যায়ে এসব ফলের ওপর বর্তমানে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ শুল্কের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ফলের বাজারমূল্য এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারত, পাকিস্তান বা নেপালের মতো দেশগুলোতে যে দামে আপেল বা কমলা পাওয়া যাচ্ছে, বাংলাদেশের ভোক্তাদের একই ফল কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দাম দিয়ে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফলের বিপুল চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সে তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর এবং খেজুরের মতো জনপ্রিয় ফলগুলোর ক্ষেত্রে দেশের বাজার প্রায় ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর। ট্যারিফ কমিশনের তথ্য বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর তাজা ফলের চাহিদা রয়েছে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন। এর মধ্যে শুধু আপেল এবং মাল্টার চাহিদাই মোট ফলের বাজারের প্রায় ৭৭ শতাংশ দখল করে আছে। অন্যদিকে রমজান মাসসহ সারা বছর খেজুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশে বার্ষিক খেজুরের চাহিদা প্রায় এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টন, যার প্রায় ৬০ শতাংশই মূলত পবিত্র রমজান মাসে ব্যবহৃত হয়। বিপুল পরিমাণ এসব ফল প্রধানত চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ব্রাজিল, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে দেশের বাজারের বিশাল চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ফলের বাজারের দামের তুলনা করলে এক অবিশ্বাস্য ও হতাশাজনক চিত্র ফুটে ওঠে। ট্যারিফ কমিশনের তুলনামূলক বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকায়। অথচ একই আপেল ভারতের বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ২২০ টাকায়। পাকিস্তানে আপেলের দাম আরও কম, সেখানে প্রতি কেজি মিলছে ১১০ থেকে ১৭০ টাকায় এবং নেপালে পাওয়া যাচ্ছে ১৬০ থেকে ২৪০ টাকায়। একইভাবে বাংলাদেশে প্রতি কেজি মাল্টা কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা। কমলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজারে দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা হলেও, ভারতে এটি মিলছে মাত্র ৯০ থেকে ১৫০ টাকায়। পাকিস্তানে কমলার দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১২০ টাকা এবং নেপালে ১২০ থেকে ১৭০ টাকা। আঙুরের বাজারেও একই চিত্র বিরাজমান। দেশে আঙুর ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হলেও, ভারতে তা ১৩০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাকিস্তানে ১০০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সাধারণ খেজুরের দাম বাংলাদেশে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা হলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোতে এটি অনেক সস্তা। ভারতে সাধারণ খেজুর ১৬০ থেকে ২৬০ টাকা, পাকিস্তানে ১২০ থেকে ২০০ টাকা এবং নেপালে ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের বাজারে কিছুটা ভালো মানের খেজুর কিনতে গেলে ভোক্তাদের এক হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
দেশের বাজারে ফলের এমন আকাশচুম্বী দামের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। প্রথমত, তাজা ফলকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পুষ্টিপণ্য হিসেবে বিবেচনা করার কথা থাকলেও, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে সরকার একে সম্পূর্ণ বিলাসদ্রব্যের শ্রেণিতে ফেলে রেখেছে। বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, ফল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি বা মৌলিক শুল্ক, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি এবং পণ্যের ধরন ও জাত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপ করা রয়েছে। এই সবকটি কর ও শুল্ক যোগ করলে একজন আমদানিকারককে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কভার বহন করতে হয়। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকৃত বুকিং দরের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক হিসাব করার কথা থাকলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো একটি উচ্চতর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণ করে শুল্ক আদায় করছে। এর ফলে আমদানিকারকদের প্রকৃত ব্যয়ের চেয়েও অনেক বেশি টাকা শুল্ক হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তৃতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দেশের ভঙ্গুর সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে। ফল আমদানির সঙ্গে যুক্ত সীমিতসংখ্যক আমদানিকারক, বন্দরকেন্দ্রিক দীর্ঘসূত্রতা, অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা এবং হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজের তীব্র সংকটের কারণে ফলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব নানামুখী জটিলতার কারণে একটি ফল আমদানিকারকের হাত থেকে শুরু করে কয়েক হাত বদল হয়ে যখন চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, তখন তার দাম প্রায় ৩০০ থেকে ৩শ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্প্রতি দেশীয় বাজারে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এই বিশদ তথ্যচিত্র ও উপস্থাপনাটি সবার সামনে তুলে ধরে।
উক্ত বৈঠকে ফলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ করে মাল্টার বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা কাটাতে তিনি ব্যবসায়ীদের মাল্টা আমদানির জন্য প্রচলিত দেশগুলোর বাইরে বিকল্প নতুন উৎস খোঁজার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খোলার মাধ্যমে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের বাজারে ফলটির সরবরাহ বৃদ্ধি করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সামনে যেহেতু খেজুরের বাড়তি চাহিদার একটি মৌসুম আসছে, তাই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই পর্যাপ্ত খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, খেজুরের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা কাস্টমসের শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের যে জটিলতা তৈরি হয়ে আছে, সেটি নিরসনেও সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফল আমদানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসে একটি যৌক্তিক সমাধান বের করার চেষ্টা করবে।
ফলের বাজারের এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ফল আমদানিকারকরা। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) অন্যতম নেতা শহিদুল ইসলাম জনি মনে করেন যে, শুল্ক কাঠামোর এই বাধাগুলো দূর করা গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতোই সাশ্রয়ী দামে বাংলাদেশে ফল বিক্রি করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আপেল, মাল্টা, আঙুর ও খেজুরসহ সব ধরনের আমদানিকৃত ফলের ওপর শুল্ক এবং করের বোঝা অনেক বেশি ভারী। অনেক ক্ষেত্রে মোট শুল্ক প্রায় ১২২ শতাংশ পর্যন্ত ছুঁয়ে যায়, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় রীতিমতো অকল্পনীয়। এই মাত্রাতিরিক্ত শুল্কের কারণেই আমদানিকৃত ফলের দাম স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে মাল্টার বাজারদর বাড়ার পেছনে শুধুমাত্র উচ্চ শুল্কই একমাত্র কারণ নয়, বরং চাহিদার তুলনায় বাজারে আমদানি হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় যে বড় ধরনের সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সেটিও দাম বাড়াতে প্রভাব ফেলছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা বন্দরে এসে পৌঁছেছে, অথচ দেশের মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়। উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজ ও বন্দরকেন্দ্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং পূর্ববর্তী চালানে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন মাল্টা আমদানি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন। ফল একটি অত্যন্ত পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সবসময় বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি মাথায় নিয়ে চলতে হয়। এই ব্যবসায়িক নেতার মতে, আমদানিকৃত ফলকে বিলাসবহুল আইটেমের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে উচ্চ শুল্কারোপের বিষয়টি সরকারের দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা একান্ত দরকার। শুল্কহার কমিয়ে যদি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্তরে নামিয়ে আনা হয়, তবে আমদানিকারকদের জন্য যেমন ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ হবে, তেমনি সাধারণ ভোক্তারাও অনেক বেশি সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় ফল কিনতে পারবেন, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারি ও রেগুলেটরি ডিউটির চাপে পড়ে অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই ফল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঐশী ফ্রুটস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী নাজিম উদ্দিন। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে বলেন যে, বর্তমান বাজারে ফলের এই সরবরাহ সংকটের একমাত্র এবং প্রধান কারণ হলো সরকারের অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক করভার। আগে যেসব এলসি খোলা হয়েছিল, ব্যবসায়ীরা শুধু সেগুলোই কোনোমতে পূরণ করছেন, কিন্তু লোকসানের ভয়ে নতুন করে আর কোনো এলসি খুলতে কেউ সাহস পাচ্ছেন না।
ফলের মতো একটি পুষ্টিকর খাদ্যপণ্যের দাম এভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে তা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কৃষি ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, ফলের ওপর করের বোঝা এত বেশি হলে ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত খরচ স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেন। তাজা ফল কোনো বিলাসী পণ্য নয়, বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ফল অত্যন্ত অপরিহার্য। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ট্যাক্সের কারণে ফলের দাম যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন দেশের একটি বিশাল সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তা কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা ও ফলের চাহিদাও বাড়ছে, কিন্তু উচ্চ ট্যাক্সের কারণে দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই নীরবে পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছেন। যেসব ফলের স্থানীয় উৎপাদন দেশে একেবারেই নগণ্য বা জলবায়ুগত কারণে উৎপাদন করা সম্ভব নয়, সেগুলোর আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। উল্টো কর বাড়ালে আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ে, ফলে আমদানি কমে গিয়ে বাজারে ভয়াবহ সরবরাহ সংকট তৈরি হয়, যার পুরো খেসারত দিতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। তাই সরকারের উচিত শুধুমাত্র রাজস্ব আহরণের দিকে না তাকিয়ে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা, জাতীয় পুষ্টির স্তর এবং বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবিলম্বে ফল আমদানির ওপর আরোপিত এই শুল্ককাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা