আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী এবং বাংলাদেশের গর্ব রুনা লায়লা শিল্পকলায় তার অসামান্য ও দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ‘মিনার-এ-দিল্লি’ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। আসন্ন ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে।
চতুর্থ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অনন্য অর্জন এই সম্মাননার বিশ্বব্যাপী এক আলাদা মর্যাদা রয়েছে। রুনা লায়লা বিশ্ব ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন। তার আগে এই বিরল সম্মাননা অর্জন করেছেন:
জোহরা সেহগাল (২০১২): ভারতের প্রখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী।
মৈত্রীপালা সিরিসেনা (২০১৫): শ্রীলঙ্কার সাবেক রাষ্ট্রপতি।
সেনিয়া রেবেক্কানা (২০১৬): স্বনামধন্য রুশ অভিনেত্রী।
উৎসবের বিস্তারিত ও আয়োজকদের বার্তা ভারতের চলচ্চিত্র ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থার উদ্যোগে আগামী ৪ থেকে ৮ মে পর্যন্ত এই চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। নয়াদিল্লির ‘ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস’ এবং ‘ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র’-এ বসবে এবারের বর্ণাঢ্য আসর।
উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাম কিশোর পরচা রুনা লায়লাকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তার ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছেন:
“কয়েক দশক ধরে আপনার সুরেলা কণ্ঠ ও বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন ভারত ও বাংলাদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। আপনার গান শুধু নিছক বিনোদন নয়—এটি আবেগ, স্মৃতি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, রুনা লায়লার এই সম্মাননা গ্রহণ দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
রাজকীয় আতিথেয়তা ও শিল্পীর প্রতিক্রিয়া কিংবদন্তি এই শিল্পীর সম্মানার্থে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা রুটে বিজনেস ক্লাস বিমান টিকিট, পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার বিলাসবহুল ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই আনন্দঘন খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রুনা লায়লা। তিনি এই উৎসবে সশরীরে অংশ নেওয়ার আগ্রহও ব্যক্ত করেছেন। এদিকে, একটি কনসার্টে অংশ নিতে তিনি বুধবার সকালেই সিলেটে গিয়ে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও নির্মাতাদের মিলনমেলায় পরিণত হতে যাওয়া এবারের দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বেশ কয়েকটি বিষয়:
নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্মাতাদের কাজ
সমসাময়িক সামাজিক বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যু
শিশুদের শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প