ঢালিউডের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা গুলশান আরা আক্তার চম্পা। রূপালি পর্দার ঝলমলে জীবন পেরিয়ে এবার পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের পথে পা বাড়াচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিনের লালিত এই স্বপ্ন পূরণ হতে যাওয়ায় দারুণ উচ্ছ্বসিত এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
পবিত্র সফরে সঙ্গী হচ্ছেন ভাই
জানা গেছে, এই পবিত্র সফরে চম্পা একা যাচ্ছেন না; তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও থাকবেন। হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে চম্পা জানান, তার বড় দুই বোন—কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা ও সুচন্দা আগেই হজ সম্পন্ন করেছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে চম্পা বলেন, “ববিতা আপা, সুচন্দা আপা আগেই হজ করে ফেলেছেন। তখন আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এবার আমার সুযোগ এসেছে। আল্লাহ যদি কপালে রাখেন, তবে এই বছরই হজ করব। সঙ্গে আমার ভাইকেও নিয়ে যাব।”
মডেলিং থেকে রূপালি পর্দার রাজত্ব
মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও চম্পা মূলত দর্শকের হৃদয় জয় করেন টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর ১৯৮৫ সালে শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তার রাজকীয় অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করে দর্শক ও নির্মাতাদের নজর কাড়েন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
অর্জনের সমৃদ্ধ ঝুলি
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন চম্পা। তার অভিনীত কালজয়ী সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘কাসেম মালার প্রেম’, ‘ভেজা চোখ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘টপ রংবাজ’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘ত্যাগ’, ‘দেশপ্রেমিক’, ‘লাল দরজা’, ‘শাস্তি’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ও ‘মনের মানুষ’।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চম্পা এ পর্যন্ত পাঁচবার সম্মানজনক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী এবং দুইবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জন করেন তিনি।