যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একমাত্র ইরানি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট সদস্য ইয়াসামিন আনসারি অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ায় তাকে ক্রমাগত হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই নোংরা আক্রমণগুলোর মূল উদ্দেশ্য কোনো সত্য প্রতিষ্ঠা নয়; বরং একটি ‘ব্যর্থ ও অবৈধ যুদ্ধ’ থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।
হুমকি ও অপপ্রচারের ধরন
কংগ্রেসওম্যান আনসারি জানান, এই পরিকল্পিত হয়রানি শুধু তার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তার পরিবার এবং অফিসের স্টাফদেরও লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে সাইবার বুলিংয়ের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে:
এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিকৃত ও ভুয়া ছবি।
তার পরিবার সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্য।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা ও আনসারির দ্বিমুখী অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পিট হেগসেথের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন আনসারি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তার অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—তিনি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অবৈধ যুদ্ধের’ তীব্র বিরোধিতা করছেন, ঠিক তেমনি ইরানের বর্তমান দমনপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থারও ঘোর বিরোধী।
তিনি বলেন, “আমার পরিবার অতীতে ইরানি শাসনব্যবস্থার কঠোরতা ও চরম নিপীড়ন ভোগ করেছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাই আমাকে আজীবন মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।”
জনগণের বিপুল সমর্থন
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের মতামতের কথা উল্লেখ করে এই কংগ্রেসওম্যান দাবি করেন, তার এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষই এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অর্থাৎ, তার এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান কেবল তার ব্যক্তিগত মত নয়, বরং এটি তার আসনের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষেরই কণ্ঠস্বর।