সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে কি আবারও ফিরছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত হোসে মরিনহো? বেশ কিছুদিন ধরেই ফুটবল বিশ্বে এমন সংবাদে তোলপাড় চলছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলো তো একধাপ এগিয়ে চুক্তির মেয়াদ এবং সম্ভাব্য দরদামের খবরও প্রকাশ করছে। রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ডের সুসম্পর্ক এবং ক্লাবের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে একজন সুদক্ষ গুরুর চাহিদাই এই গুঞ্জনকে জোরালো করেছে। তবে সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন স্বয়ং মরিনহো।
‘রিয়ালের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আসেনি’
বর্তমানে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার কোচের দায়িত্বে থাকা ৬৩ বছর বয়সী মরিনহো স্পষ্ট জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদে ফেরা নিয়ে তার সঙ্গে সাবেক ক্লাবের কারও কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি তিনি নিজেও আগ বাড়িয়ে কোনো যোগাযোগ করেননি।
গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিশ্চুপ থাকলেও, শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। মরিনহো বলেন, “না, রিয়াল মাদ্রিদের কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি। এটা আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি। ফুটবলের সঙ্গে বহু বছর ধরে আছি আমি, ঠিক যেমন আপনারা সাংবাদিকতায় আছেন। এসব গুঞ্জনের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে সত্যিই কিছু আসেনি।”
রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান সংকট
২০২৫-২৬ মৌসুমটা কার্যত ট্রফি ছাড়াই শেষ করতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। কাগজে-কলমে লা লিগার দৌড়ে টিকে থাকলেও, বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার দল শীর্ষস্থানে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা থেকে ঢের পিছিয়ে। কোনো বড় অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগ শিরোপা জিততে চলেছে বার্সা।
পাশাপাশি, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দুই লেগেই বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। দলের এই চরম ব্যর্থতার কারণেই মূলত একজন সিনিয়র এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে সক্ষম এমন ম্যানেজারের খোঁজে নেমেছে রিয়াল কর্তৃপক্ষ।
অতীতের সমীকরণ ও পেরেজ-কানেকশন
যখনই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ পরিবর্তনের ইস্যু সামনে আসে, স্বাভাবিকভাবেই ২০১৩ সালে দায়িত্ব ছাড়া মরিনহোর নাম সবার আগে উচ্চারিত হয়। ২০২১ সালে কার্লো আনচেলত্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েও ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি। আনচেলত্তি তখন এভারটনের দায়িত্বে ছিলেন এবং ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণ পার করছিলেন। পরবর্তীতে সময় প্রমাণ করেছে রিয়ালের সেই সিদ্ধান্তটি শতভাগ সঠিক ছিল। এবারও কি আনচেলত্তির মতো মরিনহোকে ফিরিয়ে এনে রিয়াল কোনো চমক দেখাবে কি না, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।