চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে একটি বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার বিধানটি সংশোধন বা বাতিল করা হয়। মে মাসের এই সময়ে এসে যখন গত সরকারের কর্মকাণ্ডের অডিট ও আলোচনা চলছে, তখন এই শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তটি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে কেন এই তোড়জোড়?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৮ নভেম্বর। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনায় শ্রমিকদের মুনাফা সংক্রান্ত শ্রম আইনের ধারাটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও তৎকালীন ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের বৈঠকে শ্রমিক নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তা আমলে নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন কোম্পানি শেভরনসহ কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চাপে এবং তাদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করতেই ১৮ মাসের দায়িত্ব শেষে বিদায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আমলাদের সতর্কতা ও তৎকালীন উপদেষ্টার বক্তব্য
তৎকালীন প্রশাসনের একাধিক আমলা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা উপদেষ্টা পরিষদকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন জনস্বার্থবিরোধী আইন করা ঠিক হবে না। কিন্তু তারা কোনো এক অদৃশ্য শক্তির চাপে এটি করতে বাধ্য হন।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তার দাবি, লভ্যাংশের এই ৫ শতাংশের কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অংশ নিতে চাইছিল না। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে এটি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার একে ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “রাজনৈতিক সরকার যাতে বাধা দিতে না পারে, সে জন্য তড়িঘড়ি করে শ্রমিকদের পেটে লাথি মেরে বিদায় নিয়েছে এই সরকার।”