• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
লবণের রাজত্বে বিপন্ন জীবন: তৃষ্ণার্ত উপকূলে এক কলস পানির যুদ্ধ অলিগলি পেরিয়ে মূল সড়কে রাজত্ব: অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রযানের কবলে বিপন্ন জননিরাপত্তা ও অর্থনীতি পাম্পে হাহাকার, অথচ উপচে পড়ছে ডিপো: দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অকটেন নিচ্ছে না সরকার মাঠে অরক্ষিত কৃষক: বজ্রপাত রোধের কোটি টাকার প্রকল্পগুলো গেল কোথায়? বাবার হাজার কোটি টাকায় মোহ নেই, লন্ডনে সাধারণ চাকরি করেন অক্ষয়-পুত্র প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানালেন অধিনায়ক আফিদা হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু আ. লীগকেও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত: রাশেদ খান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের এমপিদের অঙ্গভঙ্গি: তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জামায়াত আমিরের

সংঘাতের মাঝেও ইরানের তেলের বাজারে রমরমা ব্যবসা, দৈনিক আয় ১৪ কোটি ডলার

Reporter Name / ২০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মাসব্যাপী তীব্র যুদ্ধ চললেও ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার উল্টো সমৃদ্ধ হচ্ছে। রণক্ষেত্রের উত্তাপ ছাপিয়ে দেশটি এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে, যার সিংহভাগই আসছে জ্বালানি তেল রপ্তানি থেকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেল উত্তোলন ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি তো হয়ইনি, বরং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেহরানের মুনাফার অংক আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে অবরোধ আরোপ করে ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি। বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, যাকে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের ‘প্রবেশদ্বার’ বলা হয়। অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো চরম বিপাকে পড়লেও ইরান এই পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে। বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ‘ইরানিয়ান লাইট’ তেল বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপের টার্মিনাল ব্যবহার করে দেশটি নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের রপ্তানি বাণিজ্য সচল রেখেছে।

মজার ব্যাপার হলো, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরানের আয় গত মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করে দেশটি দিনে সাড়ে ১১ কোটি ডলার আয় করত, এখন একই পরিমাণ তেল থেকে তাদের আয় হচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করেও প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ লাখ ডলার আয় করছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের তেল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সংঘাত শুরু হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন প্রশাসনের কৌশল কার্যত ইরানের সামনে তেলের বাজার থেকে বিপুল মুনাফা করার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। যুদ্ধের দামামার মধ্যেও তেহরানের এই বিশাল আর্থিক উপার্জন তাদের অর্থনীতিকে এক প্রকার সুরক্ষা দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category