• শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
Headline
বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির উচ্চপর্যায়: রিজভী বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশইন চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ চট্টগ্রামে পাহাড়ে অভিযানে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সমঝোতায় স্বস্তিতে বিএনপি পদত্যাগ করছেন না ভারতের শিক্ষামন্ত্রী, আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচদের ‘কাজটি অনৈতিক নয়, অসামাজিক’ মন্তব্যে বিতর্কের পর ‘খণ্ডিত বক্তব্য’ প্রচারের দাবি জামায়াত এমপির ব্যাংকিং খাতে পরিচালকদের অনিয়ম রুখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ আমলাতন্ত্রের মারপ্যাঁচে থমকে গেল প্রটোকল ব্যয় কমানোর উদ্যোগ ১৮ মন্ত্রীর বিশেষ পুলিশ নিরাপত্তা বহর প্রত্যাহার

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সমঝোতায় স্বস্তিতে বিএনপি

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
Shahabuddin and Tarique

কয়েক মাস ধরে চলা নানা রাজনৈতিক আলোচনা, গুঞ্জন ও নেপথ্য দরকষাকষির চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র পেশ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমালে রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচিত হওয়া মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই চরম রাজনৈতিক চাপ ও পদত্যাগের দাবির মুখে ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তার এই মেয়াদের আগেই বিদায় নেওয়াকে রাজনৈতিক মহল একটি সম্মানজনক ও সুবিধাজনক সমাধান হিসেবে দেখছে, যা দেশকে বড় ধরনের কোনো সাংবিধানিক সংকট ও মুখোমুখি সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

প্রশাসনিক ও সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যাক-চ্যানেলে কথাবার্তা শুরু হয়। একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতেই একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। যার ফলে সংসদীয় অভিশংসনের মতো কঠোর ও বিতর্কিত কোনো প্রক্রিয়ায় না গিয়ে তৎকালীন সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্মানজনক বিদায়ের পথ করে দেওয়া হয়। এই রাজনৈতিক সমঝোতা একদিকে যেমন নবগঠিত বিএনপি সরকারের জন্য কৌশলগত স্বস্তি এনে দিয়েছে, অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য সময়টা সহজ ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি। যদিও পরবর্তীতে তাকে পদচ্যুত করার একাধিক দাবি ওঠে, কিন্তু তৎকালীন সময়ে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে ওই উদ্যোগের বিরোধিতা করে। বিদায়ী চিঠিতে মো. সাহাবুদ্দিন সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে লেখেন যে, তার দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশ তখন বড় ধরনের সাংবিধানিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছিল এবং তিনি সততা ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ও বিদায়ের প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিতর্কিত সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রতি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সর্বদা শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে এর আগে গত বুধবার প্রবাসী সাংবাদিক জিলকারনাইন সায়েরের কিছু মন্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে গতি পায় এবং থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন থাকা স্পিকার তার সফর সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরে এলে গুঞ্জন সত্যে রূপ নেয়। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেল ৪টায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, যা বাস্তবায়নের আগে পুরো দিনজুড়ে নাটকীয় নানা ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার সকালে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগের বিষয়টি স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। থাইল্যান্ড থেকে মধ্যাহ্নে ঢাকায় ফিরে স্পিকারও জানান যে, তিনি অন্যদের মতোই পদত্যাগের খবর শুনেছেন। কিন্তু তার ঠিক এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ বিকেল ৩টায় মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই গণমাধ্যমকে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। তবে সরকারের সাথে সমঝোতার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হলেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে রাষ্ট্রপতির সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলেই দাবি করছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান যে, দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ বা অনাস্থা ছিল না, বরং গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি স্বজ্ঞানে সরে দাঁড়িয়েছেন। পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগের কথা উল্লেখ করেন, যা তাকে মাঝেমধ্যে সাময়িক সংজ্ঞাহীন করে ফেলে।

আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদের প্রায় দুই বছর বাকি থাকতেই পদ ছেড়ে দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিদায় রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির জন্য তাকে অভিশংসন করার সুযোগ থাকলেও, তারা সাংবিধানিক বিতর্কের চেয়ে সমঝোতার পথকেই শ্রেয় মনে করেছে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত অলংকারিক হলেও, রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শপথ পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত রাষ্ট্রপ্রধানকে বঙ্গভবনে রেখে কাজ চালানো যেকোনো বিজয়ী সরকারের জন্যই অস্বস্তিকর। অবশেষে এই দরকষাকষির পদত্যাগের মাধ্যমে নতুন সরকার যেমন রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতে পেরেছে, তেমনই এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পথ তৈরি হলো।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category