আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে, একই দিন ভাষণ দেওয়ার অনুমতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তারেক রহমানের ভাষণ ও ইসির নির্দেশনা
আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিটিভিতে বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশন বিটিভির মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী লিখিত আবেদনের ক্রম অনুসারে স্লট নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের আবেদন ওই সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তাই বিএনপির দলীয় প্রধানকে তাদের চাহিদা মোতাবেক ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ স্লটে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জামায়াত আমিরের আবেদন
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে ভাষণ দিতে চান। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে দলটি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানায়, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবেই এই ভাষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলটি আশা করছে, ইসি দ্রুত তাদের আবেদন অনুমোদন করবে।
প্রার্থী ও নির্বাচনের চালচিত্র
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলোর মধ্যে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সর্বোচ্চ ২৯২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৫৩ জন)। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয়। আর জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়ছেন ২২৪ জন প্রার্থী। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮ ও ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগেও দলীয় প্রধানদের বিটিভিতে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।