• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুযোগ বহাল

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ রেখেই নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে তাদের ভোটে দাঁড়ানো ঠেকাতে আগের প্রস্তাবিত কড়া নিয়ম থেকে শেষ মুহূর্তে সরে এসেছে কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের (পৌরসভা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ) নতুন আচরণ বিধিমালার এই খসড়াটি ইতিমধ্যেই দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামত চেয়ে পাঠানো হয়েছে। দলগুলোকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাদের লিখিত মতামত ইসিতে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিতর্কিত অঙ্গীকারনামা বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপট

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বন্ধ করতে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিতে বেশ কিছু বড় সংশোধন এনেছিল ইসি। সেখানে দল ও প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের খসড়া বিধিমালাতেও একই ধরনের অঙ্গীকারনামা যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন ইসির কর্মকর্তারা, যা কার্যকর হলে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভোটে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। তবে এই বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র আলোচনার মুখে ইসি ওই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে আসে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। আর এই নির্দলীয় বিষয়টি বিবেচনা করেই আচরণবিধিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারনামা বা নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়নি।

প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ ও নতুন নিয়মাবলি

চূড়ান্ত করা খসড়া আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরিবেশ ও নান্দনিকতা রক্ষায় নির্বাচনে সব ধরনের কাগজের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রার্থীরা বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। এর পাশাপাশি বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণা চালানোর বৈধ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীরা ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ প্রচারণামূলক যানবাহনের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে নিজেদের তুলে ধরতে পারবেন। তবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়মে কড়াকড়ি আনা হয়েছে; প্রার্থীরা কেবল দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন।

প্রার্থিতা বাতিলের কঠোর বিধান

নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে ইসিকে আরও শক্তিশালী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই খসড়ায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলেই এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কোনো প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে বা আইন অমান্য করলে ইসি সরাসরি তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এই কঠোর বিধান যুক্ত করার ফলে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করছে কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর জুলাইয়ের শুরুতে এই আচরণবিধি চূড়ান্তভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category