• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ৩ মাস বিশেষ সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সয়াবিনের বাজারে ফের আগুন: বোতল ও খোলা তেল লিটারে বাড়ল ৪ টাকা প্লাবনের পদধ্বনি: বিপৎসীমা ছাড়াল ৪ নদী, ৫ জেলায় অকাল বন্যার শঙ্কা চেতনা বিক্রির পণ্য নয়: সংসদে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধনের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের ‘জুলাই থেকেই বিনামূল্যে ড্রেস ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা’: শিক্ষামন্ত্রী সংসদের আঙিনায় নারীরা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ৪৯, আটকে আছে একটির ভাগ্য শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস: শিগগিরই ফিরছেন চেনা রাজনৈতিক আঙিনায় খন্দকার মোশাররফের ১০৫ হিসাব অবরুদ্ধ কিউই বধের পুরস্কার: র‍্যাংকিংয়ে টাইগারদের বিশাল উল্লম্ফন প্রার্থনা করি যাতে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ঠিক না হয়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘মাইন আতঙ্ক’: হুমকির মুখে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন-তেহরান / ৯৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে কয়েক ডজন মাইন বসিয়েছে ইরান, হাতে আছে ৬ হাজারের বেশি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে কয়েক ডজন মাইন বসিয়েছে ইরান। মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভাণ্ডারে বর্তমানে ৬ হাজারেরও বেশি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক মাইন রয়েছে, যা দিয়ে তারা যেকোনো সময় এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথটি পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মার্কিন কংগ্রেসের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৯ সালে ইরানের কাছে প্রায় ৫ হাজার মাইন থাকলেও ২০২৬ সালের শুরু নাগাদ এই সংখ্যা ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

সিএনএন-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরান হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন অংশে কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। যদিও এই সংখ্যাটি এখন পর্যন্ত খুব বড় নয়, তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো সতর্ক করেছে যে, ইরানের মাইন স্থাপনকারী ছোট নৌকা ও জাহাজের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সক্ষমতা এখনো অক্ষত। ফলে তারা চাইলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শত শত মাইন বিছিয়ে দিতে পারে।

ইরানের হাতে থাকা মাইনের ধরন

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরানের কাছে তিন ধরনের মরণঘাতি মাইন রয়েছে:

  • লিম্পেট মাইন: যা জাহাজের গায়ে চুম্বকের মতো লাগিয়ে দেওয়া যায়।

  • মোর্ড মাইন: যা পানির নিচে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং জাহাজের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরিত হয়।

  • বটম মাইন: যা সমুদ্রের তলদেশে বসানো থাকে এবং ওপর দিয়ে কোনো জাহাজ গেলে সেন্সরের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে বিস্ফোরণ ঘটায়।

জ্বালানি বাজারে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। এই জলপথ মাইন বসিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের আলটিমেটাম

ইরানের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন:

‘যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তাহলে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক।’

ট্রাম্পের এই বার্তার পর ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি মাইন সরানো শুরু না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অ্যাকশনে যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category