মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অন্যদিকে ইরানও সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার তীব্র অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। পরাশক্তিগুলোর এই অনড় অবস্থানের কারণে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চরম হুঁশিয়ারি ও ইরানের অনড় অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে পরাজয় মেনে নেয়। অন্যথায় দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘কঠোর আঘাত’ সহ্য করতে হবে বলে চরম হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এই হুমকির মুখে একটুও পিছু হটেনি তেহরান। তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যে ধারাবাহিক হামলা ও পালটা হামলা চলছে, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ: ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ মধ্যপ্রাচ্য
এই ভয়ংকর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান সংঘাত এখন পুরোপুরি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাচ্ছে। এই অঞ্চল এবং এর বাইরের সাধারণ মানুষ ভয়াবহ মাত্রায় ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি লেবানন সফরে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির ভয়াবহতা তিনি নিজের চোখে দেখে এসেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
লেবানন পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের হুমকি
জাতিসংঘ মহাসচিব লেবানন ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকেই দ্রুত শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে অবশ্যই ইসরায়েলের দিকে হামলা বন্ধ করতে হবে। একইভাবে ইসরায়েলকেও লেবাননের মাটিতে সামরিক অভিযান ও হামলা অবিলম্বে থামাতে হবে, কারণ এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিরীহ সাধারণ মানুষ। প্রসঙ্গত, চলতি মার্চের শুরুর দিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলকে গাজার মতো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
সংঘাতের মূল কারণ ও বিস্তৃতি
লেবাননের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়েও গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মূলত এই সংঘাতের আগুন নতুন করে জ্বলে উঠেছে এবং তা এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়ে পড়েছে।