• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
Headline
রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে ইশরাককে অস্ত্র হাতে নামতে হয়েছে: আখতার সালাহউদ্দিনের ব্যর্থতার দায় ইশরাকদের নিতে হবে কেন? প্রশ্ন হাসনাতের মন্ত্রিসভার যে কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করলেন ইশরাক ক্যান্সার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজার বার্তা সর্বজনীন, সকল সম্প্রদায়ের: রিজভী সারাদেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে সর্বজনীন পেনশনে সুখবর, লাভবান হবেন গ্রাহকরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী মঙ্গলবার থেকে ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

ইউরোপে অস্থিরতার ধাক্কায় পোশাক রফতানি

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নাগরিক সেবার চরম অবনতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের একের পর এক দেশে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে এই অসন্তোষ এক নজিরবিহীন সহিংস রূপ ধারণ করেছে। প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই ও লিমোজের মতো বড় বড় শহরে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। বহু বাণিজ্যিক এলাকায় বড় ধরনের ভাঙচুর, দোকানপাটে লুটপাট এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি লিমোজের প্রায় দেড় শতাব্দীর প্রাচীন ঐতিহাসিক সিটি হলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো চরম ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে ইতালির শিল্প ও ফ্যাশনের রাজধানী মিলানেও মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধের বিরোধিতায় শুরু হওয়া প্রতিবাদ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। পর্যটক ও স্থানীয় ক্রেতাদের পদচারণায় সদা মুখর থাকা বিখ্যাত পিয়াজ্জা দেল দুয়োমোর আশপাশের অভিজাত শপিংমলগুলো ফাঁকা হয়ে যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। ফ্রান্স ও ইতালির এই উত্তাপ কেবল এই দুটি দেশেই সীমাবদ্ধ নেই; বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তার সরাসরি নেতিবাচক ধাক্কা এসে পড়বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর।

বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগ এবং তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় অর্ধেক অংশই যায় ইউরোপের দেশগুলোতে। ফলে ইউরোপীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং তাদের সামগ্রিক কেনাকাটার আচরণে পরিবর্তন আসা বাংলাদেশের জন্য সরাসরি বিপদের সংকেত। এমনিতেই ইউরোপের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোশাকের চাহিদার গতি বেশ মন্থর হয়ে পড়েছিল। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ক্রেতারা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে দিচ্ছিলেন। এই অবস্থায় নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক ক্ষোভ যুক্ত হওয়ায় পোশাকের খুচরা বিক্রিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপের ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে নতুন ক্রয়াদেশ আসার পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি সংকটের মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোও রফতানি ঝুঁকির মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যেকোনো স্বাভাবিক ব্যবসা ও বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো শান্ত ও স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ইউরোপের দেশগুলোতে স্থানীয় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা পোশাক ও ফ্যাশন পণ্যের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার কারণে যদি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং পর্যটকদের আগমন কমে যায়, তবে বিপণিবিতানগুলোতে সরাসরি বিক্রি পড়ে যাবে। দোকানগুলোতে তৈরি পোশাক অবিক্রীত থাকলে আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো স্বাভাবিকভাবেই তাদের নতুন অর্ডার কমিয়ে দেবে বা বাতিল করবে। ফলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে ইউরোপের বাজারের ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানি আয়ের ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশই এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে। আলোচ্য অর্থবছরে এই বাজারে বাংলাদেশ ১ হাজার ৯০৬ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। ইইউর বড় বাজারগুলোর মধ্যে এককভাবে জার্মানিতে গেছে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এছাড়া স্পেনে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, ফ্রান্সে ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং ইতালিতে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পোশাক গেছে। বছরওয়ারি হিসাবে প্রধান প্রধান বাজারে রফতানির পতন ছিল আরও উদ্বেগজনক। জার্মানিতে রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ফ্রান্সে কমেছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ইতালিতে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফলে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ শুরুর আগেই ইউরোপের এই প্রধান বাজারগুলোতে এক ধরনের গভীর মন্দা চলছিল, যা নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আরও ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে কিছুটা মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই তিন মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। প্রথম প্রান্তিকে স্পেনে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং সুইডেনে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কিন্তু যে দুটি দেশ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সহিংস বিক্ষোভের মুখে রয়েছে, সেই ফ্রান্স ও ইতালির বাজারে রফতানির চিত্র এখনো নেতিবাচক। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ফ্রান্সে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ইতালিতে কমেছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। এছাড়া বড় বাজার জার্মানিতেও রফতানি শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে সামগ্রিক রফতানি আয়ের ইতিবাচক পরিসংখ্যানের আড়ালে ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোর রক্তক্ষরণ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কারখানা মালিকরাও ইউরোপের এই অস্থিরতার অভিঘাত ইতিমধ্যে টের পেতে শুরু করেছেন। ইউরোপে নিয়মিত পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ জানান, তাদের কারখানাগুলোতে বর্তমান পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। নিয়মিত সময়ে তাদের কারখানায় যে পরিমাণ ক্রয়াদেশ থাকত, বর্তমান সময়ে তার চেয়ে দৃশ্যমানভাবে অর্ডার কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের চলমান এই বিক্ষোভ হয়তো সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা, কিন্তু এর আগেই অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সেখানে চাহিদায় টান পড়েছিল। অতীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের এমন তীব্র অর্ডার সংকটের মুখে পড়তে হয়নি। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতারাও স্বীকার করছেন যে, কোন নির্দিষ্ট সংকটের কারণে কতটুকু অর্ডার কমল তা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা কঠিন হলেও ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে তা রফতানি খাতের জন্য বড় ধরনের মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এর পাশাপাশি ইউরোপের বড় বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর ক্রয়কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স ও প্রাইমার্কের মতো বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো তাদের ঝুঁকি কমাতে এবং একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস করতে ক্রয়াদেশের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে ভারত, মিসর ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন পণ্যের দামের পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করার সময়সীমা ও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। দেশীয় রফতানিকারকরা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদায় মন্থরতার কারণে ক্রেতারা যেমন ব্যয় সাশ্রয় করতে চাইছেন, তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে যেসব দেশ কম খরচে ও দ্রুত পণ্য সরবরাহ করতে পারছে, ক্রেতারা তাদের দিকেই ঝুঁকছেন। ইউরোপের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এই ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নুরিযা লোপেজ মনে করেন, ইউরোপের সংকটের চেয়েও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো এখন বেশি উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে পারে, কারণ রাজনৈতিক মেরুকরণ, আসন্ন নির্বাচন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রধান দুর্বলতা হলো গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, ঘন ঘন শ্রম অসন্তোষ, মজুরি বিরোধ এবং ব্যবসার সার্বিক স্থিতিশীলতার অভাব। তিনি পরামর্শ দেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কটন বা তুলাভিত্তিক পোশাকের ক্ষেত্রে ভারত খুব দ্রুত তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের বাজার দখল করে নিচ্ছে, যা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা দরকার।

ইউরোপের আমদানির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের রফতানির ওপর বড় ধরনের চাপের প্রমাণ দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের পোশাক আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো থেকে নেমে ১ হাজার ১৯২ কোটি ৮০ লাখ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক গড় হ্রাসের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনার হার প্রায় তিন গুণ দ্রুতগতিতে কমেছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এমনিতেই ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের বিক্রি কমে গেছে, তার ওপর এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের নিট পোশাক খাত বড় ধরনের বিপদের মুখোমুখি হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ডক্টর মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক পুরো সংকটটির একটি কাঠামোগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, আসন্ন শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা ও দাম এক লাফে বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তেলের দামের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিক্ষোভ মিলে সামনের দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সার্বিক আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের বড় সংকোচন তৈরি হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি, কারণ আমাদের রফতানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এককভাবে ইউরোপের বাজারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এখনও ইউরোপের বাইরে বড় কোনো বিকল্প বাজার তৈরি করতে পারিনি। বাজার বহুমুখীকরণ করতে না পারার এই দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতা এখন সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

তবে এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তাঁর মতে, ইউরোপের এই বিক্ষোভ মূলত সাময়িক সামাজিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ এবং এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সব আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের রফতানি ইতিবাচক ধারায় থাকা সেটিরই প্রমাণ। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি কী রূপ নেবে তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত সংকট বার বার ফিরে আসবে, তাই বিদেশি বাজারের ওপর দোষ না চাপিয়ে দেশীয় রফতানিকারকদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং যেকোনো বৈশ্বিক ধাক্কা সামলানোর স্থায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category