একনজরে মূল খবর:
ক্ষুব্ধ পেজেশকিয়ান: পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?’
যুদ্ধের শঙ্কা: হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যায়ে আসায় হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক করেছেন ট্রাম্প।
পাকিস্তানে প্রস্তুতি: আগামী শুক্রবারের মধ্যে নতুন দফার আলোচনার জোর গুঞ্জন। ইসলামাবাদে মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণ এবং শীর্ষ হোটেলগুলো খালি করার মাধ্যমে হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ইঙ্গিত মিলেছে।
মধ্যস্থতায় সেনাপ্রধান: সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় নতুন করে যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এর মাঝেই পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
‘ইরানকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?’
রোববার (১৯ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প বলেন, ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু ইরান কোন অপরাধের কারণে এ অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না, সেটি তিনি বলেন না। একটি দেশকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?”
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কেবল আত্মরক্ষা করছে। তিনি বলেন, “ইরান কখনো কোনো দেশে হামলা করেনি, করবেও না। কিন্তু ইরানই হামলার শিকার হয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের আত্মরক্ষা করছে ইরান।”
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও হোয়াইট হাউসের বৈঠক
এর আগে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে ইরান পিছু হটবে না। ট্রাম্প যদিও আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ ইরানি গানবোটের গুলির মুখে পড়ে।
পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ায় এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় শনিবার সকালে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জরুরি বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেটে হেগসেথ, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
ইসলামাবাদে হাই-প্রোফাইল বৈঠকের প্রস্তুতি!
যুদ্ধের দামামার মাঝেই সংঘাত এড়াতে পর্দার আড়ালে কাজ করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি ইতিমধ্যে ইরান সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শুক্রবারের আগেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তানের দুটি সূত্র এই সম্ভাবনার পক্ষে বেশ কয়েকটি প্রমাণের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. মার্কিন বিমানের অবতরণ: রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভারী সি-১৭ গ্লোবমাস্টার (C-17 Globemaster) বিমান অবতরণ করেছে।
২. রেড জোন বন্ধ: বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদের রেড জোনে যাওয়ার সড়কগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৩. হোটেল খালি করা হচ্ছে: ইসলামাবাদের পাঁচতারা সেরেনা এবং ম্যারিয়ট হোটেলগুলো খালি করে ফেলা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে সাধারণ মানুষের কোনো বুকিং নেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল এই সেরেনা হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও সেখান থেকে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা ঐকমত্য আসেনি। এখন পুরো বিশ্বের নজর ইসলামাবাদের দিকে—এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।