• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
সীমান্তে কৃষকদের খাদ্য ও কৃষি নিরাপত্তা নেই: এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টির খরচ মাত্র ৫ লাখ টাকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরাক ও মরক্কো দলের অফিশিয়াল এআই স্পনসর গুগল জেমিনি রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন: যুদ্ধের সময় ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব প্রার্থনা… রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর: জনভোগান্তি কমাতে ‘এক ছাদের নিচে’ সব সরকারি দপ্তরের নির্দেশ কোরবানির চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ সরকারের, সংরক্ষণে দেওয়া হবে বিনা মূল্যে লবণ নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: জরুরি সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন নওগাঁয় সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর: জনভোগান্তি কমাতে ‘এক ছাদের নিচে’ সব সরকারি দপ্তরের নির্দেশ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা এবং নির্বাচনি সরঞ্জামাদির সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল। ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশজুড়ে নতুন ভবন ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রকল্পটি ফেরত দিয়েছেন। তিনি সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জনভোগান্তি লাঘবে উপজেলা পর্যায়ে আলাদা ভবনের পরিবর্তে সব সরকারি দপ্তরের জন্য একটি সমন্বিত ও সুপরিসর ভবন নির্মাণের যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের সংবেদনশীল ডাটাবেজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না রেখে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সুনির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত করারও কড়া তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভার আলোচ্যসূচিতে অন্যান্য প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের একটি বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির বর্তমান কাঠামোতে সায় দেননি। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নতুন নীতিগত মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী নির্দেশনা: ‘এক ছাদের নিচে সব সেবা’

একনেক বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদান এবং অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও সীমিত ভূমির দেশে যেখানে আবাদি জমি প্রতিনিয়ত কমছে, সেখানে প্রতিটি সরকারি দপ্তরের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণ করা এবং এর জন্য নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ করাকে তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশনা দিয়ে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্য (যেমন- কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, নির্বাচন অফিস, শিক্ষা অফিস ইত্যাদি) আলাদা আলাদা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এর পরিবর্তে প্রতিটি উপজেলায় একটি অত্যন্ত সুপরিসর, আধুনিক ও সমন্বিত বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে। উপজেলার সব সরকারি অফিস এই একটি ভবনের ভেতরেই অবস্থান করবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার মূল দর্শন হলো ‘জনভোগান্তি লাঘব’ বা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা। সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি কাজের জন্য বর্তমানে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে মাইলের পর মাইল ছুটতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও চরম ভোগান্তির। এক ছাদের নিচে সব দপ্তর থাকলে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন কৃষক বা সাধারণ নাগরিক একই জায়গা থেকে তার যাবতীয় সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন সরকারি মূল্যবান জমি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি জিরো টলারেন্সে নেমে আসবে।

ডাটা সেন্টারের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীকরণের তাগিদ

নির্বাচন কমিশনের ডাটা সেন্টার দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যভান্ডার। দেশের কোটি কোটি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য, বায়োমেট্রিক ডেটা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের যাবতীয় রেকর্ড এখানে সংরক্ষিত থাকে। এই ডাটা সেন্টারের অবস্থান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারগুলো কেন ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে? কখনো শোনা যায় আইসিটি ভবনে রাখা হচ্ছে, আবার কখনো বলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ডেটা সেন্টার কেন রাখা হচ্ছে?”

তিনি নির্দেশনা দেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিশাল ও সংবেদনশীল তথ্যভান্ডার কোনোভাবেই যত্রতত্র ফেলে রাখা যাবে না। একটি নির্দিষ্ট, অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং সর্বাধুনিক সাইবার ও ভৌত নিরাপত্তাবেষ্টিত জায়গায় সমন্বিতভাবে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করতে হবে। ছড়ানো-ছিটানো ব্যবস্থাপনার কারণে তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার যে ঝুঁকি থাকে, তা নিরসন করতেই তিনি এই কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

ইসির বাতিল হওয়া প্রকল্পের রূপরেখা ও ব্যয়

একনেকের কার্যপত্র ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের এই মেগা প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়নের নকশা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল:

  • ১টি আধুনিক আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস নির্মাণ।

  • ৩টি সুপরিসর জেলা নির্বাচন অফিস ভবন নির্মাণ।

  • ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও অত্যাধুনিক সার্ভার স্টেশন নির্মাণ।

  • মেট্রোপলিটন এলাকার থানাগুলোর জন্য ১৬টি ফ্লোর-স্পেস বা স্পেস ক্রয় করা।

এছাড়া শুধু ইটের দেওয়াল গাঁথাই নয়, এই বিপুল বাজেটের ভেতর ভূমি অধিগ্রহণ, আধুনিক আসবাবপত্র ক্রয় এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামাদি ক্রয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেট শিডিউল অনুযায়ী নতুন করে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় এই প্রকল্পের ব্যয় আগের ধারণার চেয়ে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি (পিইসি) সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রকল্পের পেছনের যুক্তি: ইভিএম সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবা

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে বেশ কিছু বাস্তবমুখী কারণ দেখিয়েছিল। ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। তখন থেকে যে বিশাল জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে, সেটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ উপজেলায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলেও, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে বেশ কিছু নতুন উপজেলা গঠিত হওয়ায় প্রায় ৬৫টি এলাকায় ইসির কোনো স্থায়ী অবকাঠামো ছিল না। বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত সেই ঘাটতি পূরণেরই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া, বর্তমান সময়ে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে আধুনিক ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), ব্যালট বাক্স এবং অন্যান্য সংবেদনশীল নির্বাচনি মালামাল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব দামি ও স্পর্শকাতর সরঞ্জামাদি রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে এবং যেকোনো ধরনের কারচুপি বা নাশকতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ও নিরাপদ অবকাঠামোগত সুযোগ তৈরি করা অপরিহার্য বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। নিজস্ব সার্ভার স্টেশনগুলো নির্মিত হলে ভোটার তালিকা নিয়মিত ও নির্ভুলভাবে হালনাগাদকরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সংশোধন, স্থানান্তর বা নতুন ভোটার হওয়ার মতো নাগরিক সেবাগুলো আরও দ্রুততর হতো বলে আশা করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম প্রকল্পটির বিষয়ে একনেক সভায় জানিয়েছিলেন যে, নিয়ম অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের যেকোনো প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় পেশ করতে হয়, আর সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এটি উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যথাযথ অবকাঠামো নিশ্চিত হলে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করবে এবং নির্ভুল নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় একটি আমূল পরিবর্তন আনার স্বপ্ন নিয়েই প্রকল্পটি সাজানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এখন পুরো মডেলটিকেই নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।

যেসব উপজেলা ও মেট্রোপলিটন থানা ছিল প্রকল্পের আওতায়

প্রকল্পের আওতায় দেশের বিপুল সংখ্যক উপজেলা ও থানাকে নির্বাচন করা হয়েছিল, যেখানে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কথা ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলাগুলো হলো:

গাজীপুর সদর, লৌহজং, সালথা, ডাসার, কালুখালী, টুঙ্গীপাড়া, তারাকান্দা, ধনবাড়ী, শাহজাহানপুর, নলডাঙ্গা, চৌহালী, ফুলছড়ি, বিরল, তালতলী, রাঙাবালি, ইন্দুরকানী, কয়রা, মুজিবনগর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, মেঘনা, তিতাস, মনোহরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, বিজয়নগর, হাইমচর, মতলব উত্তর, কমলনগর, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, কবিরহাট, সোনাইমুড়ি, সুবর্ণচর, কর্ণফুলি, সন্দ্বীপ, পেকুয়া, ঈদগাঁও, গুইমারা, ওসমানীনগর, দক্ষিণ সুরমা, শায়েস্তাগঞ্জ, জুড়ী, শান্তিগঞ্জ, দিরাই এবং মধ্যনগর।

এছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকার যানজট ও ভূমি সংকটের কথা মাথায় রেখে থানাগুলোর জন্য ফ্লোর-স্পেস কেনার পরিকল্পনা ছিল। মেট্রোপলিটন থানাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

উত্তরা, কোতোয়ালী, লালবাগ, সূত্রাপুর, সবুজবাগ, মতিঝিল, টঙ্গী, বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, সোনাডাঙ্গা, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম পোর্ট, ডবলমুরিং এবং কোতোয়ালী থানা নির্বাচন অফিস।

নির্ধারিত জেলা ও আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য যেসব জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলো হলো:

ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জ।

পাশাপাশি বৃহত্তর প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের জন্যও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা ছিল এই বাতিল হওয়া প্রকল্পে।

ভবিষ্যতের রূপরেখা

একনেক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্প ফেরত দেওয়ায় দেশের অবকাঠামো নির্মাণের চিরাচরিত নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন থেকে কোনো একক দপ্তরের জন্য সরকারি অর্থায়নে বিচ্ছিন্ন ভবন নির্মাণের প্রবণতা কমবে বলে আশা করা যায়।

নির্বাচন কমিশনকে এখন তাদের এই প্রকল্পটি নতুন করে সংশোধন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে, অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি উপজেলায় একটি ‘সমন্বিত সরকারি সেবা ভবন’ বা ‘ইন্টিগ্রেটেড গভর্মেন্ট কমপ্লেক্স’ নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যানে নির্বাচন কমিশনকেও যুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে, ডাটা সেন্টারের বিচ্ছিন্নতা দূর করে একটি শক্তিশালী, সুরক্ষিত ও কেন্দ্রীভূত ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার হাব গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তটি দেশের ভূমি রক্ষা, অর্থের সাশ্রয় এবং সর্বোপরি জনদুর্ভোগ লাঘবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category