• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে: আইনমন্ত্রী তিনি একদম ঠিক আছেন: ইউনূস সেন্টার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যু ইরানি নেতাদের হত্যা করার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো অনেকদূর চলে গেছি: ট্রাম্প জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তদন্ত করছে সৌদি আরব প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই : পরিবেশমন্ত্রী জাতীয় তথ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ৯০ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী

কৃষি উন্নয়নের নামে কোটি টাকার হরিলুট

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

কৃষির আধুনিকায়ন ও ফলন বৃদ্ধির স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে এক ভয়ংকর প্রতারণার জাল বুনেছিল একটি অসাধু চক্র। উন্নত জাতের ফলের চাষাবাদ বাড়িয়ে কৃষকদের ভাগ্য বদলের যে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল, তার আড়ালে মূলত নিজেদের পকেট ভারী করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এই নজিরবিহীন প্রতারণার মূল হাতিয়ার ছিল ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা তথাকথিত ‘খাটো জাতের নারিকেল চারা’। চটকদার বিজ্ঞাপনে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই চারা কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা আজ আক্ষরিক অর্থেই পথে বসেছেন। দেশের প্রথিতযশা কৃষি গবেষকদের সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা ও কারিগরি পরামর্শকে সম্পূর্ণ রূপে অবজ্ঞা করে, কোনো ধরনের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা বা ট্রায়াল ছাড়াই এসব রোগাক্রান্ত চারা দেশে আনা হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে কৃষকরা বাগানে ফলনের বদলে পেয়েছেন কেবল নতুন নতুন রোগবালাই আর সীমাহীন হতাশা। আর যখনই সর্বস্বান্ত কৃষকরা তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছেন বা প্রতিবাদের চেষ্টা করেছেন, তখনই তাদের কণ্ঠরোধ করতে ব্যবহার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী; নেমে এসেছে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং গুমের মতো ভয়াবহ নির্যাতন।

এই মেগা দুর্নীতির প্রেক্ষাপট রচিত হয় বিগত ২০১৫ সালে। সে বছর কৃষকদের স্বাবলম্বী করার ধুয়া তুলে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক একটি বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থাৎ ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য বাজেট ধরা হয়েছিল ১৯৫ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের নামে লুটপাটের সুদূরপ্রসারী ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবায়নের জন্য মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালে প্রথম সংশোধনী এনে এর ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এরপর ধাপে ধাপে আরও তিনবার প্রকল্পের সংশোধনী আনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় গিয়ে ঠেকে ৬৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ মূল বরাদ্দের চেয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে অবিশ্বাস্য ২২৭ শতাংশ। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী, বিশেষ কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকলে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকে। কিন্তু এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেই নিয়মকানুনের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। নারিকেল চারার পাশাপাশি সৌদি খেজুর, কাজুবাদাম ও কফি চাষের মতো আকর্ষণীয় সব কর্মসূচির কথা বলা হলেও, দিন শেষে এর কোনো সুফলই দেশের প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি।

এই বিশাল দুর্নীতির মূল কারিগর হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক ডক্টর মেহেদী মাসুদ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তালহা জুবায়ের। তালহা জুবায়ের মূলত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার একজন সাধারণ কৃষি কর্মকর্তা হলেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি রাতারাতি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে পৌঁছেছিল, তা বোঝা যায় মেহেদী মাসুদের অবসরের ঘটনা থেকে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে এই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক আরও দুই বছরের জন্য নিজের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও লুটপাটের ধারা অব্যাহত রাখতে তালহা জুবায়ের নতুন করে ‘টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন’ এবং ‘কৃষকের কোল্ড স্টোরেজ’ নামের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাগিয়ে নেন। এরপর তিনি সাবেক এক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ডক্টর মেহেদী মাসুদকে নিজের নতুন প্রকল্পে মাসিক তিন লাখ টাকা বেতনের পরামর্শক বা কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে কোনো বৈধ কারণ ছাড়া মাসে মাসে পরামর্শক ফির নামে তুলে নেওয়ার ঘটনা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

ভিয়েতনাম থেকে এই বিদেশি চারা আমদানির আগে দেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে এটি কতটা মানানসই, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা ছিল সবচেয়ে জরুরি একটি ধাপ। কিন্তু প্রকল্প কর্মকর্তারা বিজ্ঞানীদের সেই প্রাথমিক শর্তটিই পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। কৃষি গবেষক মো. শামীম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই খাটো জাতের চারা দেশের মাটিতে কোনোভাবেই ভালো ফলন দিতে সক্ষম নয়। গবেষকদের পক্ষ থেকে জোরালো সুপারিশ ছিল যে, বাণিজ্যিকভাবে আমদানির আগে অল্প কিছু চারা এনে দেশের বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে বা ট্রায়াল হিসেবে লাগিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু সেই পরামর্শ কানে তোলেননি ক্ষমতাবান পরিচালকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনস্থ বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে এবং হাটহাজারী, বরিশাল ও জয়দেবপুরসহ বেশ কয়েকটি নিজস্ব স্টেশনে এই চারা রোপণ করে দেখা গিয়েছিল যে এগুলোর কোনো আশানুরূপ ফলন নেই। এমনকি রাজশাহী অঞ্চলের প্রখ্যাত কৃষি গবেষক ডক্টর মো. আলীম উদ্দীন পরিষ্কারভাবে তার লিখিত মতামত দিয়েছিলেন যে, এই চারাগুলো পোকামকড়ে পরিপূর্ণ এবং এগুলো দেশে আনা মোটেই ঠিক হবে না। উত্তরাঞ্চল বা দক্ষিণাঞ্চল, কোথাও এই চারা টিকতে পারেনি। গবেষকদের ধারণা, এই চারার মাধ্যমেই দেশে নতুন ধরনের ক্ষতিকর পোকা ও রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে যা অন্যান্য ফসলের জন্যও মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

চারা আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়মনীতিকেও চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। বিদেশ থেকে এ ধরনের কৃষিপণ্য বা চারা আমদানি করতে হলে আন্তর্জাতিক দরপত্র বা গ্লোবাল টেন্ডার আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কর্মকর্তারা সেই পথে না হেঁটে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ‘মল্লিকা সিড’ নামের একটি দেশীয় অনুগত কোম্পানির মাধ্যমে সমুদ্রপথে প্রায় সাড়ে সাত লাখ চারা আমদানি করেন। এখানেই দুর্নীতির শেষ নয়; প্রকল্পের মূল প্রস্তাবনায় আড়াই লাখ চারা কৃষকদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদর্শনীর জন্য বিতরণের কথা উল্লেখ ছিল। সরকারের তরফ থেকে এই আড়াই লাখ বিনামূল্যের চারার জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসাধু কর্মকর্তারা সেই বিনামূল্যে বিতরণের চারা কৃষকদের কাছে প্রতিটি ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ আড়াই লাখ চারার পাশাপাশি আরও প্রায় পাঁচ লাখ চারা অবৈধভাবে এনে মোট সাড়ে সাত লাখ চারা কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৯ সালের দিকে পূবালী ব্যাংকের খামারবাড়ি শাখায় প্রকল্পের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দেখানো হয়। পরবর্তীতে কৃষকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে আরও নয় কোটি টাকা সেই হিসাবে জমা করে মোট ৪০ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার লেনদেন দেখিয়ে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কৃষকদের এই চারার প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে নিজস্ব ব্যবসায়িক ইউটিউব চ্যানেল ‘কৃষি বায়োস্কোপ’-এর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের ব্যক্তিগত চ্যানেলে এমন বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ চাকরিবিধি পরিপন্থি। যখন কৃষকরা প্রতারিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন, তখন তিনি ওই চ্যানেল থেকে সরে এসে অন্যদের দিয়ে বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল খুলে সাধারণ কৃষকদের বিভ্রান্ত করা অব্যাহত রাখেন। এমনকি প্রখ্যাত কৃষি সাংবাদিক শাইখ সিরাজের সুনামকে পুঁজি করে ‘শাইখ সিরাজ ফ্যান্স গ্রুপ’ নামের ভুয়া পেজ খুলেও চারা বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক শাইখ সিরাজ নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, একটি প্রতারক চক্র তার নাম ব্যবহার করে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই খাটো জাতের নারিকেল চারা দিয়ে দেশের কৃষকদের কোনো উপকারই হয়নি।

প্রতারণার শিকার হয়ে দেশের নানা প্রান্তের কৃষকরা যখন নিজেদের সর্বস্বান্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে কৃষকরা প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ ও তালহা জুবায়েরের বিচার চেয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন করেন এবং কৃষি সচিবসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সুবিচার পাওয়ার বদলে তাদের কপালে জুটেছে ভয়াবহ পরিণতি। অনেক কৃষককে বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে গুম করার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে আন্দোলনকারী কৃষকদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের কৃষি উদ্যোক্তা মোস্তাক মৃধাকে গুম করে নিয়ে আসা হয়। নাটোরের আরেক স্বনামধন্য কৃষি উদ্যোক্তা এবং এআইপি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক সেলিম রেজা আক্ষেপ করে জানান যে, তিনি এক লাখ টাকা দিয়ে ২০০ চারা কিনে দেশের প্রথম বাণিজ্যিক বাগান করেছিলেন। কিন্তু পোকা আর রোগে বাগান নষ্ট হয়ে গেলে তিনি তা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। অভিযোগ করার পর প্রতিকার তো পানইনি, উলটো পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে তাকে বাড়িঘরছাড়া করা হয়। এমনকি প্রকল্প পরিচালকের চ্যানেলে তাকে কৃষক মানতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়, অথচ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কৃষি সম্মাননাপ্রাপ্ত একজন উদ্যোক্তা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও একই হতাশার চিত্র বিরাজ করছে। পিরোজপুর জেলার নেসারাবাদ উপজেলার কুনিয়ারী গ্রামের কৃষক মাহমুদ কবির জানান, তিনি তার বাগানে ২০-২২টি ভিয়েতনামি চারা লাগিয়েছিলেন। ইউটিউব ও প্রচারণায় যে বিপুল ফলনের গল্প শোনানো হয়েছিল, বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও তিনি পাননি। এই গাছগুলো টিকিয়ে রাখতে যে পরিমাণ সময়, শ্রম এবং সার-কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়, তা সাধারণ কৃষকদের সামর্থ্যের সম্পূর্ণ বাইরে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আরেক এআইপি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি উদ্যোক্তা শাহবাজ হোসেন মিল্টন জানান, আমাদের দেশি জাতের নারিকেল গাছের তুলনায় এই ভিয়েতনামি গাছের ফলন তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র। দেশি গাছ অনেক কম খরচে এবং বিনা পরিশ্রমে যে ফলন দেয়, বিদেশি খাটো গাছে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও তার কাছাকাছি ফলন পাওয়া সম্ভব নয়।

এই মেগা দুর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ডক্টর মেহেদী মাসুদকে তার দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি চিকিৎসকের চেম্বারে থাকার অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে আরেক অভিযুক্ত তালহা জুবায়েরকে তার মুঠোফোনে কল করে কৃষকদের প্রতারিত হওয়া এবং ইউটিউব চ্যানেলে অবৈধ প্রচারণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকের পরিচয় পাওয়ার পরও তিনি উদ্ধত আচরণ করেন এবং কোনো জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের বক্তব্য জানার জন্য কয়েক দফায় চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কখনো তিনি বিদেশে চিকিৎসার কথা বলেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন মন্ত্রী জরুরি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। ফলে দেশের সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এত বড় একটি রাষ্ট্রীয় প্রতারণার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ বা জবাবদিহিতার সামান্যতম লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। দুর্নীতিবাজরা ধরাছোঁয়ার বাইরে বহাল তবিয়তে আছেন, আর হাজারো কৃষক নিজেদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে কেবল বিচারের আশায় দিন গুনছেন।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category