ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নেই বলে সিগন্যাল ভেঙে চলে যাচ্ছেন কিংবা সিসি ক্যামেরাকে নিছক দেখার বস্তু ভাবছেন? এই ভুল ধারণা পাল্টানোর সময় এসেছে। আপনার অজান্তেই এখন গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান হয়ে সার্ভারে চলে যাচ্ছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই মোবাইল ফোনে মামলার নোটিশ এসে হাজির হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙলে মামলার জন্য আর পুলিশের বাঁশির অপেক্ষা করতে হবে না, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও বুয়েটের যৌথ সহযোগিতায় রাজধানীতে এআই ভিত্তিক এই আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন ভঙ্গের ঘটনাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব শিগগিরই পুরো রাজধানীতে ১১ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সাধারণ ক্যামেরার মতো মনে হলেও এগুলোর পেছনে থাকা এআই সফটওয়্যার আপনার গাড়ির প্রতিটি নড়াচড়া নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে সক্ষম।
নতুন এই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমটি বর্তমানে মূলত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ওপর কড়া নজর রাখছে। সিগন্যালে জেব্রা ক্রসিং বা নির্ধারিত স্টপ লাইন পার হয়ে গাড়ি থামালে কিংবা শর্টকাট নিতে গিয়ে উল্টো পথে বা রং সাইডে গাড়ি চালালে মুহূর্তেই মামলা হয়ে যাবে। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করা, রাস্তার মোড়ে বা যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে জটলা বা যানজট সৃষ্টি করা এবং নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করালেও স্বয়ংক্রিয় এই সিস্টেম আপনার নামে তাৎক্ষণিক মামলা রুজু করে দেবে।
আইন ভাঙার কারণে আপনার মোবাইল ফোনে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন নোটিশ এলে তা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি অবহেলা করলে আপনার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে। নোটিশ পাওয়ার পর দ্রুত ডিএমপি সদরদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে এবং ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে বা জরিমানা না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার যানজট কমাতে কতটা সাহায্য করবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া রুটে ইতোমধ্যেই আইন ভাঙার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়াতে ট্রাফিক আইন পুরোপুরি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন