আজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় গিয়েছিলাম। এরা সবাই কঠিন সংগ্রাম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—অথবা এখনো পড়ছে এবং খুব ভালো রেজাল্ট করছে।
তাদের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য দেখলাম। আমার ধারণা, এসব অনুসরণ করলে যে কারো পক্ষে ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব।
১) জেদ—
এরা সবাই জেদি। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিল, কেমিস্ট্রি থেকে সে পুরো সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে অনার্সে ফার্স্ট হবে। সবাই বলেছিল—এটা অসম্ভব। এতে তার জেদ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে কেমিস্ট্রি থেকে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হয়েছিল।
২) স্বপ্ন—
একটি ছেলের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশা চালাতেন। প্রায় তাঁর রিকশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরতেন। তিনি বাসায় এসে ছেলেমেয়েদের কাছে এসব শিক্ষার্থীর গল্প করতেন। তাঁর গল্পই দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন বুনে দেয়। দুই ভাইবোনই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। রেজাল্টও খুব ভালো।
৩) বাবা-মায়ের সমর্থন—
এদের মা-বাবা আর্থিক সংকটে থাকলেও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় পূর্ণ সাপোর্ট দিয়েছেন। পড়ালেখায় ভালো করার জন্য বাবা-মার সাপোর্ট খুব দরকার।
৪) ভালো বন্ধু—
এরা সবাই বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিল। যা তাদের ভুল পথে পা বাড়াতে দেয়নি।
৫) পরিশ্রম—
এরা সবাই খুব পরিশ্রমী। আয় করার জন্য এরা বিভিন্ন কাজ করেছে, কিন্তু সেজন্য পড়ার ক্ষতি হতে দেয়নি। এমন অভিজ্ঞতাও শুনেছি, টিউশনি শেষে রাত দশটায় বাসায় বা হলে ফিরে ভোররাত পর্যন্ত পড়েছে। তারপর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে ক্লাসে গেছে।
৬) শৃঙ্খলা ও রুটিন—
এরা সবাই কঠিন শৃঙ্খলা মেনে চলেছে। সবাই পড়ার রুটিন করে তা অনুসরণ করেছে।
৭) সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহার—
ছাত্রাবস্থায় এরা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব কম সময় দিয়েছে, যাতে সময় নষ্ট না হয়।
৮) লাইব্রেরি ব্যবহার—
খেয়াল করলাম, এরা সবাই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে।
৯) ক্লাস অ্যাটেনডেন্স—
সবাই নিয়মিত ক্লাস করেছে। নোট নিয়েছে।
১০) নিজ বিষয়ের বাইরে পড়া—
প্রায় সবার নিজ বিষয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়ার অভ্যাস আছে, যা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান রেখেছে।
প্রিয় শিক্ষার্থী—ম্যাক্সিমাম পঁচিশ/ছাব্বিশ বছর পর্যন্ত তুমি পরিবারের সাপোর্ট পাবে। তারপর তোমার নিজের জীবন শুরু হবে। এ বয়সের পর রোজগার না করলে তুমি প্রথম সম্মান হারাবে নিজ পরিবারে।
এটিই অপ্রিয় সত্য।