• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
Headline
তিন চাপে পোশাক খাত পাঠ্যবইয়ের দর ফাঁসের ত্রিপক্ষীয় ফাঁদে আড়াইশো কোটি টাকার হরিলুট ক্ষমতার পালাবদল বনাম রাষ্ট্র পুনর্গঠন: জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের কঠিন পরীক্ষা এম্পটি নেস্ট সিনড্রোম: সন্তান বিচ্ছেদের শূন্যতা—১০টি পরামর্শ পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার প্রতিবাদে ১২ অক্টোবর অনশন দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জেন-জিদের দিল্লিতে লকডাউন: ধ্রুব রাঠি-দীপকের পর এবার আটক কেজরিওয়াল-মমতা ব্যানার্জি, যন্তর মন্তরে ব্যাপক ধরপাকড় ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর ছয় মিনিটও সময় নেয়নি বিএনপি, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে: আখতার হোসেন

তিন চাপে পোশাক খাত

Reporter Name / ০ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প এখন এমন এক সময় পার করছে, যখন একই সঙ্গে একাধিক দিক থেকে চাপ বাড়ছে। একদিকে শিল্পকারখানাগুলোকে গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকট সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে গিয়ে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের মূল্য কমানোর প্রবণতা এবং পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা। সব মিলিয়ে অর্ডার ধরে রাখা, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, এই তিন ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের পোশাক খাতকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু সাময়িক জ্বালানি সংকট হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদার পরিবর্তন, ক্রেতাদের দামের বিষয়ে বাড়তি দরকষাকষি, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্রেতারা যখন একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের কৌশল নিচ্ছেন, তখন সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

টেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশিকুর রহমান তুহিন বলেন, পোশাক উৎপাদনের ব্যয় একদিকে বাড়ছে, অথচ একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের দাম কমানোর চাপ আসছে। পশ্চিমা বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাই আগের তুলনায় কম দামে পোশাক সংগ্রহ করতে চাইছেন। এর ফলে রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি উৎপাদন ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং মুনাফার পরিমাণ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

পোশাকশিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি এখন অর্ডার ধরে রাখা। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, দেশের ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানা জানিয়েছে, তাদের বিদেশি ক্রেতারা অর্ডারের পরিমাণ কমিয়েছে অথবা কিছু অর্ডার বাতিল করেছে। এই প্রবণতা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ রপ্তানি বাজারে একটি ক্রেতা অর্ডার কমিয়ে দিলে তার প্রভাব শুধু একটি কারখানায় সীমাবদ্ধ থাকে না, উৎপাদন পরিকল্পনা, শ্রমঘণ্টা, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ পুরো সরবরাহব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সময়মতো পণ্য সরবরাহের সমস্যা। একই জরিপ অনুযায়ী, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে ৮৭ শতাংশ কারখানা পণ্য পাঠাতে বিলম্বের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পোশাক ব্যবসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সরবরাহকারী বারবার নির্ধারিত সময়ে পণ্য দিতে ব্যর্থ হলে ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজতে পারেন। ফলে জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না, এটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহকারীদের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাকেও প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও মনে করেন, কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড এখন সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানোর জন্য একাধিক দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের কিছু অর্ডার অন্য দেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের সব পোশাকের অর্ডার ব্যাপকভাবে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। বরং ক্রেতারা সরবরাহকারীর তালিকায় বৈচিত্র্য আনছেন এবং একই সঙ্গে বিকল্প দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করছেন। বাংলাদেশের জন্য মূল উদ্বেগ হচ্ছে, এই পরিবর্তিত ক্রয়কৌশল ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী হয়।

উৎপাদন খরচের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। বিকেএমইএর জরিপে ৭৮ শতাংশ নিট পোশাক কারখানা জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের কোনো না কোনো পর্যায়ে উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যার কথা জানিয়েছে। শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন সচল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডিজেলচালিত জেনারেটর অথবা এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এই বাড়তি ব্যয় সরাসরি বিদেশি ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগও সীমিত। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বেশি। মূল্যস্ফীতি, বিক্রির ধীরগতি এবং অতিরিক্ত মজুদের মতো কারণ দেখিয়ে অনেক ব্র্যান্ডই তুলনামূলক কম দামে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে একদিকে বেশি খরচে উৎপাদন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরোটা পণ্যের মূল্যের মধ্যে যুক্ত করা যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই এতে কারখানার মুনাফা কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসার আর্থিক চাপ বাড়ছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ বর্তমানে নিট পোশাক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে অর্ডার, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতার ওপর পড়তে শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, ক্রেতারা শুধু কম দাম নয়, এখন নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের পক্ষে অর্ডার ধরে রাখা আরও কঠিন হতে পারে এবং প্রতিযোগী দেশগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের জন্য মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪৯৬ কোটি ডলার থেকে কমে প্রায় ৪৬৫ কোটি ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে পতন দেখা গেছে। তবে শুধু বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে এমন নয়, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চীন থেকেও পোশাক আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ফলে বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পোশাক সরবরাহকারীদের একটি অবস্থানে রয়েছে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নলেজ হাবের সভাপতি এবং সিপিডির সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের যে অংশ কমেছে, তার পুরো সুবিধা বাংলাদেশ নিতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশও কিছু ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর অর্থ হলো বৈশ্বিক পোশাকের বাজার ছোট হলেও প্রতিযোগিতার মাত্রা কমছে না। বরং সীমিত অর্ডারের জন্য সরবরাহকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় ও বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দেশের পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু এখন শুধু কম দামে পণ্য উৎপাদন করলেই ক্রেতাদের ধরে রাখা সম্ভব হবে না। উৎপাদনের গতি, মান, সময়মতো সরবরাহ, পরিবহনব্যবস্থা এবং অর্ডার অনুযায়ী দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দীর্ঘ লিড টাইম এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের সামনে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা ও সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা দ্রুত বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বাজার হিস্যা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে সংকট ও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন কারণে ৩০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। একই সময়ে ৫৩টি নতুন কারখানা বিজিএমইএর সদস্য হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৪ হাজার কর্মী কাজ করছেন। অর্থাৎ পুরোনো কিছু কারখানা বন্ধ হলেও নতুন বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে জ্বালানি ও উৎপাদন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, পোশাক খাতকে স্থিতিশীল করতে তাৎক্ষণিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি না থাকলে কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে না। একই সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রম, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং পরিবহনব্যবস্থার দক্ষতা বাড়িয়ে পণ্য সরবরাহের সময় কমাতে হবে। কারণ কারখানা পর্যায়ে উৎপাদন দ্রুত হলেও বন্দরে বা কাস্টমসে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে বাংলাদেশের সরবরাহ সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে দেশের পোশাক খাতকে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। তুলনামূলক কম দামের সাধারণ পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং বিশেষায়িত পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি, অটোমেশন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন ভৌগোলিক বাজার তৈরি হলে নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের চাহিদার ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাত এখন একটি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ, অন্যদিকে ক্রেতাদের মূল্য কমানোর প্রবণতা এবং তৃতীয় দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে শিল্পটির সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে লজিস্টিকস ব্যয়, উচ্চ সুদহার, দীর্ঘ সরবরাহ সময় এবং বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা। ফলে ভবিষ্যতে শুধু বড় উৎপাদন সক্ষমতা থাকাই যথেষ্ট হবে না, বরং কম সময়ে, প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে এবং নির্ভরযোগ্যভাবে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করতে পারাটাই হয়ে উঠবে মূল শক্তি।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্যসুবিধার কাঠামোতেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেই পরিবর্তনের আগেই উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, ব্যয় কমানো, অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করা জরুরি। বর্তমান সংকটকে শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যা হিসেবে না দেখে শিল্পের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পোশাক খাত আবারও প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে। আর যদি জ্বালানি সংকট, সরবরাহের বিলম্ব ও উৎপাদন ব্যয়ের মতো সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সীমিত বৈশ্বিক অর্ডারের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category