• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
Headline
ছাত্রদলের ক্যাম্পাস, ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে: জবি ভিসিকে শাসালেন ছাত্রদল নেতা ১০টি পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে অবস্থান জানাল দিল্লি ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ৭০০ মেগাহার্জ ওয়াই-ফাইয় উন্মুক্তে আপত্তি বিটিআরসির ১৩ বছরের সর্বনিম্ন: বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ৩৭% হ্রাস নাগরিক সেবায় কোটা ব্যবস্থার অমীমাংসিত বিতর্ক: দুই বছর পরো সংস্কার নিয়ে স্থবিরতা রাজনৈতিক বিবেচনায় ২৬৫ ডিএজি-এএজি নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জে রিট

তিন প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদ শূন্য: থমকে আছে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কর্মীদের বেতন

Reporter Name / ১১১ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), সোনালী ব্যাংক এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান পদ প্রায় এক মাস ধরে শূন্য পড়ে আছে। বিদায়ী চেয়ারম্যানরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তা এখনো অনুমোদিত হয়নি। ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংস্থাগুলোর দৈনন্দিন ও নীতিগত কার্যক্রমে।

পদত্যাগের হিড়িক ও অনুমোদনের জটিলতা

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কয়েক দিন পরই, ২ মার্চ এই তিন সংস্থার চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করেন। তারা হলেন:

  • ড. এম আসলাম আলম (আইডিআরএ)

  • মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী (সোনালী ব্যাংক)

  • মোহাম্মদ জয়নুল বারী (সাধারণ বীমা করপোরেশন)

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এসব পদত্যাগপত্র অর্থমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে অনুমোদন না আসায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারছে না। আবার যেহেতু আগের চেয়ারম্যানরা নিজ থেকে পদত্যাগ করেছেন, তাই তারা আর দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ফলে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আটকে আছে আইডিআরএ কর্মীদের বেতন

এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী আইডিআরএ-এর কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, আইডিআরএ-তে কর্মীদের বেতন ছাড়ের জন্য বোর্ড সভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় এবং কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব না দেওয়ায় গত এক মাস ধরে কোনো বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কর্মীদের বেতন সম্পূর্ণ আটকে আছে।

নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ব্যাংক ও করপোরেশন

সোনালী ব্যাংক এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনে কর্মীদের বেতন আটকে না থাকলেও সেখানে অন্য ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অনুমোদনে রুটিন কাজ এবং বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও, কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

সাধারণ বীমা করপোরেশনের এক কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংকের একজন ডিজিএম জানান, যেসব সিদ্ধান্ত বোর্ড সভার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, চেয়ারম্যান না থাকায় সেগুলো আটকে আছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিতর্ক ও অবৈধ বীমা কোম্পানি

পদত্যাগকারী চেয়ারম্যানদের মধ্যে আইডিআরএ-এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমকে ঘিরে বেশ কিছু বিতর্ক রয়েছে। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও দেড় বছরের মাথায় পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া। এই বাড়তি ফি আদায়ের জন্য নবায়ন আটকে রাখায় বর্তমানে দেশের সব জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানি আইনত ‘অবৈধ’ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, জয়নুল বারী আইডিআরএ থেকে পদত্যাগের পর সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, আর মুসলিম চৌধুরী পেশাদারত্বের সঙ্গেই সোনালী ব্যাংক পরিচালনা করছিলেন বলে জানা যায়। তবে হঠাৎ তাদের এই গণপদত্যাগ এবং নতুন নিয়োগে কালক্ষেপণ দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category