সারা দেশে ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগী। কখনও কখনও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতায় দীর্ঘ চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শিশুদের। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা, চিকনগুনিয়া, সিজনাল কোভিড, রাইনো ভাইরাস এমনকি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুরা। রাজধানীর শিশু হাসপাতালে এসব উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন চারশোর বেশি রোগী।
রোগী আর স্বজনদের ভিড়ে কোথাও যেন ঠাঁই নেই—শ্যামলী শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিত্র কিছুটা এমনই। নিয়মিত রোগীর সঙ্গে যোগ হয়েছে সিজোনাল রোগীর সংখ্যা। এক পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন একই সময়ে।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, বহির্বিভাগে অন্তত ৫০০ রোগী আসছে হাসপাতালে। তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, এমনকি ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে আসছেন শিশুরা।
ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, তীব্র গরমের পর বৃষ্টিতে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের এই সময়ে দেখা দেয় ইনফ্লুয়েঞ্জা, চিকনগুনিয়া, সিজোনাল কোভিড, রাইনো ভাইরাসের উপস্থিতি। এসব ভাইরাসে তেমন বড় ক্ষতি না হলেও দীর্ঘ সময় চিকিৎসার বাইরে থাকলে ফুসফুসে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুদের সঙ্গে ঝুকিতেঁ পড়তে পারেন প্রাপ্তবয়স্করাও। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এই সর্দি-কাশি মূলত ভাইরাসের কারণেই হয়ে থাকে। এটা আপনা-আপনি সেরে যায়। বিশেষ করে যারা ৫ বছরের নিচে এবং বয়স্ক ৬০ বছরের ওপরে, তাদের একটু বিশেষ পরিচর্যা প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে আমরা এর প্রতিকার করতে পারি।’
হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে টাইফয়েড নিউমোনিয়ায় জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে, দীর্ঘ সময় ভোগাচ্ছে আক্রান্তদের। এ অবস্থায় বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
শ্যামলী শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘এই মৌসুমে দেখা যায়, বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গরমও পড়ছে। পলে এই যে তাপমাত্রার যে ওঠা-নামা, এর কারণে বিশেষ কিছু অগণিত ভাইরাসের কারণে ঠান্ডা-কাশি হচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় জ্বর, সর্দি-কাশি বা ডায়েরিয়া রোগ বাড়ছে। এর মধ্যে কিছু আবার ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীও আছে।’
আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা, যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
সূদ্র: এখন টিভি