সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের চিত্র আজ ছিল বর্ণিল ও উৎসবমুখর। গ্যালারিভর্তি দর্শক, মাঠজুড়ে খুদে অ্যাথলেটদের শৈল্পিক প্রদর্শনী আর উৎসবের আমেজে এক অন্যরকম আবহের সৃষ্টি হয়। এই মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল—দেশজুড়ে মেধা অন্বেষণের নতুন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আজ শনিবার (২ মে) বিকেলে এই মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনের সময় ও আয়োজন
আজ বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান। বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এই আয়োজনের বিশেষত্ব ছিল এর ডিজিটাল সংযোগ; প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সময় দেশের সবকটি জেলা স্টেডিয়াম থেকে খুদে ক্রীড়াবিদরা ভার্চুয়ালি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।
নস্টালজিয়া থেকে নতুন স্বপ্ন: ‘নতুন কুঁড়ি’ এখন খেলার মাঠে
১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় মেধা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র কথা কার না মনে আছে! তবে এবার সেই পরিচিত নাম ফিরে এসেছে নতুন আঙ্গিকে। সাংস্কৃতিক মঞ্চের বদলে এবার গন্তব্য সবুজ মাঠ। মাঠ পর্যায় থেকে আগামীর তারকাদের খুঁজে বের করতেই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ। এই যাত্রায় উৎসাহ দিতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন দেশের ৩২ জন খ্যাতনামা খেলোয়াড়, যারা এই প্রতিযোগিতার ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করছেন।
কেন উদ্বোধনী ভেন্যু সিলেট?
সাধারণত বড় সব আয়োজন ঢাকা কেন্দ্রিক হলেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবার সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান:
“প্রধানমন্ত্রীকে যখন আমরা ঢাকার কথা বলেছিলাম, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না, ঢাকার বাইরে নিয়ে যাও। সব সময় তো ঢাকা থেকেই শুরু হয়, আমি চাই এবার ঢাকার বাইরে থেকে শুরু হোক।’ উনার সেই পরিকল্পনা অনুসারেই আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট থেকে এই যাত্রা শুরু হলো।”
নির্বাচনী ইশতেহার ও ক্রীড়া কার্ড
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, এটি তারই বড় প্রতিফলন। ইতিমধ্যে সরকার ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও বিশেষ ভাতা চালু করেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মেগা প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতার খুঁটিনাটি ও পরিসংখ্যান
বয়সসীমা: ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোর।
ইভেন্ট: মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্ট (ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট)।
পদ্ধতি: উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের নির্ধারণ করা হবে।
অঞ্চল: পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে (ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ)।
রেজিস্ট্রেশন: মাত্র কয়েক দিনে সারা দেশ থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন খুদে ক্রীড়াবিদ নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ ২৫,৩৮৭ জন এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সর্বনিম্ন ৭,৯৬৬ জন নাম লিখিয়েছেন।
খেলার নিয়মাবলী
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে। অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর হবে ফাইনাল রাউন্ড। একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবেন।
আগামী ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে এই প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের খেলাগুলো শেষ হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ও শক্তিশালী ভিত তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।