• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
Headline
ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত কক্সবাজারে শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যুবক গ্রেফতার মিরপুর কলেজের দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭ মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার: তথ্য উপদেষ্টা দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই : মির্জা ফখরুল

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ও ফেসবুকে তোপ: পদায়নের পরপরই প্রত্যাহার তিন এসপি

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

সাম্প্রতিক রদবদলে দেশের ১২টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা এবং নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠার পর বাধ্য হয়ে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিন জেলার এসপিকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে সর্বশেষ প্রত্যাহার করা হয়েছে মৌলভীবাজারের নতুন এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামকে। এর আগে একই ধরনের বিতর্কের মুখে ফেনী ও পঞ্চগড় জেলার এসপিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

গত ৫ মে নতুন কর্মস্থলে পদায়নের মাত্র ১০ দিনের মাথায় গত শুক্রবার (১৫ মে) মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত ওই আদেশে প্রত্যাহারের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, আড়াই কোটি টাকার চুক্তির বিনিময়ে রিয়াজুল ইসলাম মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে একটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই তড়িঘড়ি করে তাঁকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে শনিবারের (১৬ মে) মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়।

মৌলভীবাজারের ঘটনার ঠিক আগেই, গত ১১ মে ফেনীর এসপি মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান এবং পঞ্চগড়ের এসপি মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এই দুই কর্মকর্তার অতীত রেকর্ড নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল। ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাহবুব আলম খান দুটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে এলেন, তা নিয়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এমনকি তাঁর নিয়োগ বাতিল ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিটও দায়ের করেন। অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের এসপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বিগত সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে ২০২২ সালে তাঁর এক বছরের ইনক্রিমেন্টও স্থগিত করেছিল সরকার। এমন বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফের এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।

যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এভাবে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করায় পুলিশ সদর দপ্তর এখন চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ না খুললেও, ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন যে, নিয়োগের আগে কর্মকর্তাদের অতীত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগগুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের যে গুঞ্জন উঠেছে, তা পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক এসব প্রত্যাহার এবং অতীত আমলনামা ঘেঁটে ব্যবস্থা নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা অনেক পুলিশ কর্মকর্তার মাঝেই এখন চরম অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সূত্র: দৈনিক আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category