• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
‘ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না’: প্রধানমন্ত্রী ফুটবল মাঠের পরিচিত মুখ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী: গুলিতেই শেষ হলো মাফিয়া টিটনের অধ্যায় কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু মার্কিন অবরোধে তেলের ব্যারেল ১২০ ডলারে আবারও গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের হামলা পরমাণু চুক্তি ছাড়া নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ‘না’, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিনের প্রস্তাব, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ট্রাম্পের ধাপে ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল: প্রথম ধাপেই বাড়ছে মূল বেতন বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে ৭ জনের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ ৪ মে দেশে আসছে

ফুটবল মাঠের পরিচিত মুখ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী: গুলিতেই শেষ হলো মাফিয়া টিটনের অধ্যায়

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

যশোর শহরের ফুটবল মাঠ কাঁপানো এক তরুণ থেকে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া—খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনের জীবনের গল্পটা যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দীর্ঘ কয়েক দশকের অপরাধজগতের রাজত্ব, হত্যা, চাঁদাবাজি এবং কারাভোগের পর অবশেষে সন্ত্রাসীদের গুলিতেই জীবনাবসান হলো এই ‘মাফিয়া’র।

যেভাবে খুন হলেন টিটন

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে দুর্বৃত্তদের সশস্ত্র হামলার শিকার হন টিটন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে ৫-৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার রাতে যশোর শহরের কারবালা জামে মসজিদে জানাজা শেষে খড়কী ‘আপনের মোড়’ এলাকায় নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

ফুটবলার থেকে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি

সাবেক জুটমিল কর্মকর্তা খন্দকার ফখরুদ্দিনের ছেলে টিটন একসময় দারুণ ফুটবল খেলতেন। ৯০-এর দশকে যশোরের ফুটবলে তিনি বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। তবে বড় ভাই টুটুল এবং ভগ্নিপতি—ঢাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমনের হাত ধরেই তার অন্ধকার জগতে প্রবেশ। স্থানীয় সাবেক এক রেফারির মতে, রাজনৈতিক হামলার শিকার হয়ে প্রতিশোধপরায়ণতা থেকেই টিটন অপরাধ জগতে পা বাড়ান।

যশোর থেকে ঢাকায় নেটওয়ার্ক বিস্তার

৯০-এর দশকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে টিটন ও তার ভাই অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা ঢাকায় আস্তানা গাড়েন এবং মোহাম্মদপুরকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্তিশালী আন্ডারওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

জোড়া খুন ও শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি

১৯৯৯ সালে স্থানীয় বিরোধের জেরে টিটন ও টুটুল যশোরের কারবালা এলাকায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে মোসলেম উদ্দিন খোকন ও টিপুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন। এই ঘটনার পর ২০০০ সালে র‍্যাবের কথিত ক্রসফায়ারে বড় ভাই টুটুল নিহত হলে টিটন পুরোপুরি ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকেই তিনি অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রমতে, হত্যা ও সন্ত্রাসসহ একাধিক অভিযোগ থাকায় ২০২১ সালে প্রকাশিত দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল টিটনের নাম।

কারামুক্তি ও শেষ পরিণতি

দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা এবং কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন টিটন। শোনা যায়, এরপর তিনি আবারও অপরাধ জগতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে অস্ত্রের জোরে তিনি কয়েক দশক ত্রাস রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, সেই অস্ত্রের আঘাতেই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটল।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, টিটন যশোরের বাসিন্দা হলেও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় থাকা মামলাগুলোর বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category