সারাদেশে অব্যাহত বজ্রপাতের তাণ্ডবে আবারও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ৫ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দুদিনে বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর আঘাতে সারাদেশে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। আজকের এই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কক্সবাজারে, যার মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে লবণচাষী ও কৃষকও রয়েছেন।
নোয়াখালী জেলায় আজ এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে সকালে বাড়ির পাশে হাঁটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তানজিলা আক্তার (১৭) নামে এক আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া কবিরহাট উপজেলায় মো. আয়মান নামে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গ্রামীণ জনপদে হঠাৎ শুরু হওয়া এই বজ্রপাতের প্রকোপে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার কলসেরকান্দি গ্রামসংলগ্ন মাঠে বৃষ্টির মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শাহাদাত তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠের গরু নিরাপদ স্থানে নিতে গিয়েছিলেন, তখনই বজ্রপাতটি সরাসরি তাঁর ওপর আঘাত হানে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে স্বপ্ন পূরণের পথে থাকা এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর জীবন কেড়ে নিয়েছে বজ্রপাত। মোহাম্মদ রবিন মিয়া (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থী সকালে বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার ও সহপাঠীরা।
কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে আজ সকালে লবণের মাঠে কাজ করার সময় রমিজ উদ্দিন নামে এক চাষীর মৃত্যু হয়েছে। লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। উল্লেখ্য, চলমান কালবৈশাখীর মৌসুমে খোলা জায়গায় কর্মরত কৃষিজীবীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা মেঘের ঘনঘটা দেখলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও জীবিকার তাগিদে মাঠে থাকা প্রান্তিক মানুষদের এই ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।