• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ‘হতাশ’ করল

Reporter Name / ১০৫ Time View
Update : বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩

লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে শুরু হয়েছে ন্যাটোর দুদিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে ইউক্রেনের ছিল ন্যাটোতে যোগদানের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। যুদ্ধকবলিত দেশটির নাগরিকদের মাঝেও ছিল টানটান উত্তেজনা। কিন্তু ইউক্রেনের এই আশায় গুড়েবালি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জোটের সদস্য হতে এখনো উপযুক্ত নয় কিয়েভ। কারণ পশ্চিমা সামরিক জোটের সদস্য হতে হলে সদস্য দেশের অনুমতি প্রয়োজন। একই সুরে তাল মিলিয়েছেন হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউক্রেন যেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারে সেই লক্ষ্যে সম্মেলনে একটি সংস্কারের পথ তৈরি করা হবে। কিন্তু দেশটি ঠিক কখন ন্যাটোতে যোগ দেবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সান্ত্বনাবাণীতে ফুঁসে উঠেছে পুরো ইউক্রেন। এএফপি, রয়টার্স, সিএনএন, গার্ডিয়ান।

আর এতেই ভেতর ভেতর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ইউক্রেন। ন্যাটোভুক্ত হতে যুক্তরাষ্ট্রের এ ‘অনির্দিষ্টকাল’র বাঁধায় রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাৎক্ষণিক টুইটার বার্তায় সময়সূচির ‘অনিশ্চয়তাকে দুর্বলতা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি খোলাখুলিভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করব।’ পাশাপাশি জোটে যোগদানের একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি প্রদানে কিছু ন্যাটো নেতার অনিচ্ছাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। আজ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আরও জোর দেবেন জেলেনস্কি। মার্কিন ইশারা বুঝে বক্তব্য বদলে ফেলেছেন ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলেনবার্গও। বলেছেন, ‘সম্মেলনে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হবে। ২০০৮ সাল থেকে জোটে আসতে চেষ্টা করছে দেশটি। তারা অনেকদূর এগিয়েছে। ইউক্রেন কোনো একসময় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়েছিল ন্যাটো। এখন ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার কাছাকাছি ইউক্রেন। আমি মনে করি, সিদ্ধান্ত প্রতিফলনের সময় এসছে।’

অথচ সপ্তাহ খানেক আগে স্টলেনবার্গই বলেছিলেন, আসছে ন্যাটো সম্মেলনেই সদস্যপদ পেতে পারে ইউক্রেন।

এদিকে ন্যাটোতে যোগদানে তুরস্কের সবুজ সংকেতে আনন্দে ভাসছে পুরো সুইডেন। অনেক দিন থেকেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনে (ন্যাটো) যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আসছিল সুইডেন। কিন্তু জোটের অন্যতম সদস্য তুরস্কের বাধায় তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। গত এক বছরের নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে এতে সম্মতি জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন হিসাবে বর্ণনা করেছেন স্টলেনবার্গ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি ঘোষণাটি দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সুইডেনের সদস্যপদের আবেদন সংসদে পাঠাতে ও দ্রুত সময়ে অনুমোদন দিতে সম্মত হয়েছেন। আজ ঐতিহাসিক দিন।’

লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ন্যাটো মহাসচিব স্টলটেনবার্গ। এর পরই এরদোগান তার মত পাল্টাতে সম্মত হন। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর গত বছরের ১৭ মে ন্যাটোতে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ ফিনল্যান্ডের সদস্যপদকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় তুরস্ক। কিন্তু সুইডেনের আবেদন আটকে রাখে দেশটি।

তুরস্কের অভিযোগ ছিল, সুইডেন কুর্দি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পিকেকে-কে মদদ ও সহায়তা করে। এ কারণে তুরস্ক শর্ত জুড়ে দেয়, সুইডেনকে এসব সন্ত্রাসীকে সহায়তা বন্ধ করতে হবে; এরপর তারা ন্যাটোর সদস্যপদ পাবে। সোমবারই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান হঠাৎ করে শর্ত দেন, তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করে নেওয়ার কার্যক্রম যদি আবারও শুরু করা হয়; তাহলে তিনি সুইডেনের ন্যাটো সদস্যপদের অনুমোদনের বিল সংসদে পাঠাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category