• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

নতুন কর ও নির্মাণ ব্যয় আবাসন খাতে স্থবিরতা

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টারত দেশের আবাসন খাত বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের বাড়তি খরচ এবং আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন করের বোঝা এই খাতকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবাসন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্মাণাধীন প্রকল্পের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি এই খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন–পরবর্তী সময়েও আবাসন বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি। এর ওপর বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ক্রেতারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ফ্ল্যাট বিক্রির হার বেশ নিম্নমুখী। ‘ঐশী প্রপার্টিজ’ ও ‘শেলটেক’-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, বিগত কয়েক মাসে ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রায় ২০ শতাংশের বেশি ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নতুন কর কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ফ্ল্যাটের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে, যা মধ্যবিত্তের আবাসন চাহিদা মেটানোর সক্ষমতাকে সংকুচিত করে ফেলবে।

নির্মাণ ব্যয়ের মূল উপকরণ রডের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। প্রস্তাবিত বাজেটে রড উৎপাদনে ভ্যাট ও কাঁচামালের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কারণে প্রতি টন রডের উৎপাদন খরচ অন্তত ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়ে যেতে পারে। বিএসআরএমসহ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই বাড়তি ব্যয়ের চূড়ান্ত দায়ভার বহন করতে হবে ভোক্তাদের। সব মিলিয়ে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, বাজেটে জমির মালিকদের জন্য নতুন ‘ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স’ বা মূলধনি লাভ করের প্রস্তাব আবাসন শিল্পে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। রিহ্যাবের মতে, জমি উন্নয়ন চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের ফলে প্রকল্পটি অবাস্তব হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বড় প্রকল্পে জমির মালিক যদি বড় অঙ্কের ফ্ল্যাট সুবিধা পান, তবে তাকে কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধ করতে হবে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

আবাসন শিল্পের সঙ্গে সিমেন্ট, ইস্পাত, সিরামিক, রং ও পরিবহনসহ দেশের প্রায় ২৬৯টি শিল্পখাত সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এই খাতের স্থবিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্যোক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কর ও শুল্ক কাঠামোতে পুনর্বিবেচনা করে আবাসন শিল্পকে রক্ষা করার জন্য, নতুবা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category